
শামিম বেপারী সাভার আশুলিয়া
সাভারে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও মারধরকারী শীর্ষ মাদক সম্রাট শামীম রেজার স্ত্রী সাথী আক্তারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও নারীদের শ্লীলতাহানি করে একটি বাড়ি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে সাভারের দেওগাঁ পূর্বপাড়া এলাকায় বহিস্কৃত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামিরদের ভাড়া বাড়িতে এই হামলা ও দখল চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগীরা সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে শীর্ষ মাদক সম্রাট শামীম রেজার স্ত্রী সাথী আক্তারের নেতৃত্বে সোহরাব, জেমস গোমেজ ওরফে গুপ্ত কাজল, শাকিব, রাকিব, মনির ও নিলুফা ইয়াসমিনসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও সুইচ গিয়ারসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাভারের দেওগাঁ পূর্বপাড়া এলাকার দুইটি বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়। এসময় হামলাকারীরা বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়াদের মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এদিকে হামলা ও ভাংচুরের খবর পেয়ে বাড়ির মালিকের মেয়ে রুমি আক্তার, শিরিন আক্তার, সুখি আক্তার ও তাদের মা মিনারা বেগম ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় হামলাকারী সোহরাবের হাতে থাকা সুইচ গিয়ার দিয়ে রুমী আক্তারের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া মিনারা বেগমকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মেয়ে শিরিন আক্তারকে মারধর করে গলায় থাকা স্বর্নের চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং তার বোন রুমি আক্তার, শিরিন আক্তার ও সুখি আক্তারকে শ্লীলতাহানী করে। এছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও শিশুদেরও মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
হামলায় আহত রুমি আক্তারের মাথায় তিনটি সেলাই দেয়া হয়েছে এবং তার ব্যবহৃত স্মার্ট ফোনটিও ছিনিয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সাভার থানা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে বৃহস্পতিবার আটক করার পরদিনই পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছ। যে মামলায় সামিরকে আটক করা হয়েছ, সেই মামলার বাদী সাথী আক্তারের নেতৃত্বেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিরিন আক্তার বলেন, মাদক সম্রাট শামীম রেজা সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলে তার স্ত্রী সাথী আক্তারের নেতৃত্বে আমাদের বাড়ি দখলের চেষ্টা করেছে মাদকসেবী সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে আমারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। অবিলম্বে হামলার ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
তবে হামলায়ে নেতৃত্ব দেয়া অভিযুক্ত সাথী আক্তারের সাথে বিষয়টি জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ও লিখিত অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) নুরুল আমিন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে এবং উভয় পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। এঘটনায় ভোক্তভোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। উর্দ্ধতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।