
মোঃ রায়হান আহমেদ ভূঁইয়া | প্রতিবেদনেঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজন অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার। বর্তমানে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে অবস্থান করছেন নির্যাতিত নারী।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের লালপুরী-শিরাপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন ভুক্তভোগী। গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার স্বামী মো. হানিফ জীবিকার তাগিদে রাজমিস্ত্রির কাজে বাইরে গেলে ওই সুযোগে শহীদুল ইসলাম শহীদ (৪০), শাহিন মিয়া (৩৮) এবং তাদের সহযোগী শুভ (৩৩) ঘরে প্রবেশ করে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সন্তানদের কান্নাকাটি করতে দেখেন। প্রথমে তারা কিছু বলতে সাহস না পেলেও পরে ছোট মেয়ে ইঙ্গিত দিয়ে মায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানায়। এরপর স্ত্রীর কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন।
তার অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তদের লোকজন তাদের বাড়ির চারপাশে নজরদারি করছিল। ফলে ভয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যেতে পারেননি। পরবর্তীতে সুযোগ পেয়ে ১২ জুন সোনারগাঁ থানায় গিয়ে পুরো বিষয়টি অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ১নং আসামি শহীদুল ইসলাম শহীদ ও ৩নং আসামি শাহিন মিয়াকে গ্রেফতার করে। তবে ২নং আসামি শুভ এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে তারা কোনো আপস না করে আইনের আশ্রয় নেন।
বর্তমানে নির্যাতিত নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে। পরিবারের দাবি, এলাকায় ফিরে গেলে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তারা এখনো বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পুলিশ জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এটাই সাংবাদিকতার দিক থেকে বেশি নিরাপদ ও পেশাদার হবে।