
প্রতিনিধি: মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাজালিয়া বোমাং হাটে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমজমাট পশুর বাজার বসেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারি ও সাধারণ মানুষ তাদের লালন-পালন করা গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে এ হাটে আসছেন।
এই হাটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে কোনো ধরনের হাসিল বা চাঁদা নেওয়া হয় না। হাসিলমুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের খামারের পশু সরাসরি হাটে নিয়ে এসে বিক্রি করতে পারছেন। এতে একদিকে যেমন বিক্রেতারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন, অন্যদিকে ক্রেতারাও তুলনামূলক কম দামে দেশি পশু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
হাট ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জমে উঠছে বেচাকেনা। গরুর সারি, মহিষের দল আর ছাগলের ঝাঁক—সব মিলিয়ে পুরো হাটজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে দেশি জাতের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
পটিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ক্রেতা এই হাটে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে এসে পছন্দমতো পশু বাছাই করছেন, যা হাটের প্রাণচাঞ্চল্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
খামারিরা জানান, হাসিলমুক্ত হওয়ায় তারা বাড়তি কোনো খরচ ছাড়াই সরাসরি ক্রেতার কাছে পশু বিক্রি করতে পারছেন। এতে তাদের লাভের পরিমাণও বাড়ছে। অন্যদিকে ক্রেতারাও মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি খামারির কাছ থেকে পশু কিনতে পারছেন বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, বাজালিয়া বোমাং হাট দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এ হাটে ব্যাপক বেচাকেনা হয়। হাসিলমুক্ত এই হাট ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের জন্য একটি আদর্শ পশুর বাজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।