
নিজস্ব সংবাদদাতা : জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার ০৫ নং সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের দিগজান পূর্বপাড়ায় ঈদের কেনাকাটার জন্য ৫০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তানভীর আহম্মেদ (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত তানভীর আহম্মেদ একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপোষ মিয়ার বড় ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, গত ২৫ মে ২০২৬ ইং তারিখ রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঈদের কেনাকাটার জন্য তানভীর তার মায়ের কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাই মোঃ উমর ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের বিরোধের জেরে পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে তানভীর আহম্মেদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। হামলার সময় কাঠের পিঁড়ি দিয়ে আঘাত করা হলে তার বাম কানের পর্দা ফেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তানভীর ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বৌলাইগঞ্জ বাজারে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য গোলকপুর বাজারে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর অন্য কোথাও নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
পরদিন ২৬ মে ২০২৬ ইং তারিখ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তানভীরকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে ঢাকা নিউরোসায়েন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে তাকে ঢাকায় ভর্তি করা হলে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে দ্রুত লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় উত্তরার শিন শিন জাপান ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা পরিবারের সদস্যদের জানান, তানভীরের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, তানভীর দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। তবে পারিবারিক কলহের জেরে এভাবে নির্মম হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, স্থানীয় এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ সুহেল আহমদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী এটি হত্যা নাকি অপমৃত্যু তা নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তানভীর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশান্তি সৃষ্টি করতেন। ঘটনার দিনও একই বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।