
ডেস্ক রিপোর্ট
যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আলোচিত চিকিৎসক ডা. রাফসান জনি অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। শনিবার (২৪ মে) রাতে কোতোয়ালী থানাধীন বাহাদুরপুর এলাকার রজনীগন্ধা তেল পাম্পের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক, ধর্ষণ মামলা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনায় আলোচনায় ছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ডা. রাফসান জনির বিরুদ্ধে প্রথমে তার শ্যালিকা সামিয়া আফরোজ বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক, ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন। পরে এ ঘটনায় মণিরামপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন—দীর্ঘদিন তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রাখা হয় এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখানো হতো।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক সংবাদ প্রকাশিত হলে ডা. রাফসান জনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, কয়েকজন সাংবাদিক তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছেন। তার দাবি ছিল, মামলা ও সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখার নামে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা এবং পরে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে ডা. রাফসান জনি যশোরের একাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর নাম উঠে আসে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু, সাকিরুল কবীর রিটন, হাসিবুর রহমান শামীমসহ আরও কয়েকজন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়।
তবে বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। এশিয়ান টিভির যশোর প্রতিনিধি হাসিবুর রহমান শামীম আদালতে মামলা করে অভিযোগ করেন, ডা. রাফসান জনি ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং চাঁদা দাবি করেছেন। আদালত পরে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।
এছাড়াও ডা. রাফসান জনির বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার মানহানি মামলার খবরও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অভিযোগ ওঠে, সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা বক্তব্যে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এদিকে ধর্ষণ মামলার পর থেকেই ডা. রাফসান জনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়। কয়েকটি প্রতিবেদনে তাকে “পলাতক” হিসেবেও উল্লেখ করা হয় এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলো দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
সবশেষে শনিবার রাতে কোতোয়ালী থানাধীন বাহাদুরপুর রজনীগন্ধা তেল পাম্পের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে কিংবা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে—সেই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।