
আশীষ বিশ্বাস
নীলফামারী প্রতিনিধি:-
তিস্তা নদীর চিরচেনা গর্জন আর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ এলাকার বুক চিরে জেগে ওঠা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার এক প্রত্যন্ত ইউনিয়ন ঝুনাগাছ চাপানি। আর দশটা সাধারণ গ্রামের মতোই শান্ত ও স্নিগ্ধ এই জনপদ। তবে অবহেলিত ও নদীবিধৌত এই প্রত্যন্ত অঞ্চলেরই এক মধ্যবিত্ত পরিবারে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার। তিস্তা পাড়ের ধূলিকণা থেকে উঠে এসে কোয়ালিটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে স্বাধীন অর্জন করেছে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি। তার এই অভাবনীয় সাফল্য যেন পুরো তিস্তা অববাহিকার মানুষের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
স্বাধীনের বাবা মতিজার রহমান পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিস্তার চরের বৈরী আবহাওয়ার মতোই জীবনের নানা প্রতিকূলতার মাঝেও দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন তিনি। লক্ষ্য একটাই— ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তোলা, বানাবেন দেশের সেবায় নিয়োজিত একনিষ্ঠ একজন চিকিৎসক। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণের মহাসড়কে প্রথম বড় ধাপটি সফলভাবে পার করলো স্বাধীন।
অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে স্বাধীনের বাবা মতিজার রহমান বলেন, “আমার একটাই স্বপ্ন, ছেলেকে ডাক্তার বানাবো। ব্যবসার এতো কষ্ট আর গায়ে লাগে না, যখন দেখি ছেলে পড়াশোনায় ভালো রেজাল্ট করছে। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ায় আমার আশা আর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে। ওর মায়ের আর আমার স্বপ্ন ও পূরণ করবে ইনশাল্লাহ।”
এই সাফল্যের পেছনে পর্দার আড়ালের মূল কাণ্ডারি হলেন স্বাধীনের মা আমেনা বেগম। মায়ের মমতা, সার্বক্ষণিক দেখভাল আর বাবার কঠোর পরিশ্রমই স্বাধীনকে জুগিয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মূল অনুপ্রেরণা।