1. admin@mhnews24.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত জনসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় প্রভাষক গাজী ফারুকে আজম মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সম্প্রীতি অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় ঘরের তালা ভেঙে আরএফএল কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, বাইকসহ চম্পট রুমমেট অন্তর গফরগাঁও-মাওনা সড়ক ভূমি অধিগ্রহণে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র সিলেট বিভাগের চেলানদী রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পদক্ষেপ, ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ইসলামের সুমহান আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ নরসিংদীর মাধবদীতে দুইটি হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, অর্থ দন্ড আড়াইহাজার উপজেলা জামায়াতের হাইজাদী ইউনিয়নে ওয়ার্ড কর্মী-সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিংড়ায় জামতলী-বামিহাল রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আনু

ইতিহাসের পাঠশালার ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৪ বার পঠিত

আমাদের গৌরবের ইতিহাস তরুণ প্রজন্মকে জানাতে ইতিহাস লেখক গবেষকদের ভুমিকা অপরিসীম ‘
স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :
ইতিহাসের পাঠশালা ( দি একাডেমি অব হিস্ট্রি )’র ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩, রবিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্ণারে এক বর্ণাঢ্য জাতীয় সেমিনার ও লেখক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। জ্ঞানচর্চা, ইতিহাস গবেষণা এবং সাহিত্য সাধনার এক অনন্য মিলনমেলায় রূপ নেয় এ আয়োজন, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রাজ্ঞ ইতিহাসবিদ, গবেষক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল “প্রাচীন বাংলা সাহিত্য বিবর্তন ও মনীষা মঞ্জুষা” শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ, যা উপস্থাপন করেন নোয়াখালীর কৃতীসন্তান, প্রবীণ ইতিহাসবিদ ম. পানা উল্যাহ্। তাঁর গবেষণাপত্রে প্রাচীন বাংলার সাহিত্য ঐতিহ্য, ভাষার বিকাশ এবং মনীষীদের অবদান বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিহাসের গভীরতা ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়। ইতিহাসের পাঠশালার পরিচালক লেখক লায়ন দুলাল কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইতিহাসের পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক ও সম্পাদক, ইতিহাসবেত্তা সোহেল মো. ফখরুদ-দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব, গবেষণার প্রসার এবং নবীন প্রজন্মকে ইতিহাসমুখী করে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিন পর্বে বিভক্ত এই আয়োজনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বপরিব্রাজক রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট আলেয়া বেগম লাকী, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাতিয়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রবীণ ইতিহাসবিদ এনামুল হক এবং উদ্বোধক ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ হাবিবুর রহমান।

দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবীণ ইতিহাসবিদ ও অনুবাদক সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, প্রধান আলোচক ছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসবিদ ড. দেবকন্যা সেন এবং উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশের প্রবীণ ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

তৃতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন উপ-সচিব, কৃষি প্রযুক্তিবিদ ও ইতিহাসবিদ সিরাজুল করিম; প্রধান আলোচক ছিলেন ডা. মোহাম্মদ মোছলেম এবং উদ্বোধক ছিলেন কোরআন গবেষক মোহাম্মদ হোসেন।

লেখক মিলনমেলার মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লক্ষীপুর সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ইতিহাসবিদ মঈন উদ্দিন পাঠান, দি ট্যুরিস্ট পত্রিকার ডিপুটি এডিটর লেখক-গবেষক মো. কামাল উদ্দিন, চাঁদপুরের বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আজম পাটোয়ারী, সাংবাদিক ম আ আবির আকাশ, কবি ও সম্পাদক ফজলুল মল্লিক, কবি রুখসানা আকতার, প্রবীন ইতিহাসবিদ আ ব ম মহিউদ্দিন খান চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপুটি রেজিষ্ট্রার হেদায়ত উল্লাহ তুর্কি, ইতিহাসের পাঠশালার পরিচালক ডা. মআআ মুক্তদীর, কবি ও ছড়াকার ফরিদ সাঈদ, মো. নাজমুল হক শামীম, শিক্ষাবিদ সুরাইয়া তাহমিনা, ফাতেমা আফরিন, প্রবীন আইনবিদ ও ইতিহাসবিদ গোলাম আকবর, মো. আল মুতাছিম, মো. কামরুল ইসলাম, আলমগীর হোসাইন, কবি গোলাম মোস্তফা তাপস, আল আমিন মিয়াজী, ডা. হাফিজুর রহমান, চিত্র সাংবাদিক রিয়াদ মাহমুদ খান, ড. পীরজাদা আজমীরি, শিক্ষাবিদ প্রিয় দর্শন বড়ুয়া প্রমূখ।

বক্তারা প্রাচীন ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব ও নব প্রজন্মের আলোকিত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ইতিহাস হাজার বছরের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ-প্রাচীন জনপদ, সভ্যতা, ভাষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য দলিল। এই ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা। ইতিহাস সংরক্ষণ মানে কেবল অতীতকে ধারণ করা নয়; এটি বর্তমানকে বোঝা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলা। আজকের বিশ্বায়নের যুগে যখন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা একটি জাতিকে শিকড়হীন করে দিতে পারে। তাই প্রাচীন ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রচার অত্যন্ত জরুরি। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, লোকঐতিহ্য, আঞ্চলিক ইতিহাস এবং মৌখিক ঐতিহ্য-সবকিছুকে একত্রে সংরক্ষণ করেই একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নির্মাণ সম্ভব। নব প্রজন্মের জন্য ইতিহাস হলো আলোর দিশারী। ইতিহাস তাদের শেখায় সংগ্রামের গল্প, ত্যাগের শিক্ষা, নৈতিকতার ভিত্তি এবং আত্মপরিচয়ের বোধ। ইতিহাস জানলে একজন তরুণ তার জাতি, সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে ইতিহাস তাদের সমালোচনামূলক চিন্তা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24