
নজরুল ইসলাম খোকন,
টেকনাফ, কক্সবাজার
কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী নাফ নদী এলাকায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় সশস্ত্র চোরাকারবারি দলের সঙ্গে বিজিবির গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। তবে বিজিবির তৎপরতায় একটি জি-থ্রি রাইফেল, ৫১৫ রাউন্ড গুলি এবং ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাহারপাড়া সংলগ্ন এলাকায় টহলরত সদস্যরা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা একটি সন্দেহজনক নৌকার গতিবিধি লক্ষ্য করেন। নৌকাটিতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের জেলে পরিচয় দিলেও তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।
এ সময় সশস্ত্র চোরাকারবারি দলটি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক মিনিট গোলাগুলির পর দুর্বৃত্তরা নৌকাটি ফেলে নাফ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সাঁতরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা পরিত্যক্ত নৌকাটি তল্লাশি চালিয়ে একটি জি-থ্রি রাইফেল, তিনটি খালি জি-থ্রি ম্যাগাজিন, তিনটি ফাইবার ম্যাগাজিন, ৫১৫ রাউন্ড গুলি এবং ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। এছাড়া একটি সিম্পনি বাটন মোবাইল ফোন, দুটি এয়ারটেল সিম, একটি জি-থ্রি পাউচ, দুটি লুঙ্গি, একটি কলার গেঞ্জি, নগদ ২০ টাকা এবং ১২ প্যাকেট মারিস ব্র্যান্ডের সিগারেটও জব্দ করা হয়।
বিজিবির গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মে হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ কাব্যিক চর এলাকায় জেলে বেশধারী রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ইয়াবা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত একই সশস্ত্র চক্রের সদস্যরা এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী সাধারণ জনগণ ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি।