1. admin@mhnews24.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত জনসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় প্রভাষক গাজী ফারুকে আজম মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সম্প্রীতি অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় ঘরের তালা ভেঙে আরএফএল কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, বাইকসহ চম্পট রুমমেট অন্তর গফরগাঁও-মাওনা সড়ক ভূমি অধিগ্রহণে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র সিলেট বিভাগের চেলানদী রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পদক্ষেপ, ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ইসলামের সুমহান আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ নরসিংদীর মাধবদীতে দুইটি হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, অর্থ দন্ড আড়াইহাজার উপজেলা জামায়াতের হাইজাদী ইউনিয়নে ওয়ার্ড কর্মী-সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিংড়ায় জামতলী-বামিহাল রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আনু

উলিপুরে জমি দখল: মৃত বড় ভাইয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৫ বার পঠিত

রফিকুল ইসলাম রফিক কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সাহেবের কুটি গ্রামে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর বিরোধের তথ্য উঠে এসেছে। মৃত বড় ভাইয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করে তার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে একই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় নথিপত্র, পারিবারিক সাক্ষ্য এবং এলাকাবাসীর বক্তব্যে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত ভাকারু শেখের চার ছেলে ও তিন মেয়ে ছিলেন। বড় ছেলে খসরু শেখ বহু আগে নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সরকারি এসএ রেকর্ড অনুযায়ী, খসরু শেখের নামে ২৪৮৬ নম্বর দাগে ২০ শতক এবং ২৪৯৩ নম্বর দাগে ১১ শতক—মোট ৩১ শতক জমি নথিভুক্ত রয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে ছোট ছেলে আলিম উদ্দিন তার বড় ভাই খসরু শেখের অস্তিত্ব অস্বীকার করে ওই জমির মালিকানা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। শুধু তাই নয়, খসরু শেখ ও আলিম উদ্দিন একই ব্যক্তি—এমন দাবিও তোলা হচ্ছে বর্তমানে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, খসরু শেখের সম্পত্তির মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ শতক জমি আলিম উদ্দিন জীবদ্দশায় তার দুই ভাইয়ের কাছে বিক্রি করেন। অবশিষ্ট জমি এখনো তার উত্তরাধিকারীদের দখলে রয়েছে।

১৯৯৪ সালের আরএস রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলিম উদ্দিন তার নিজ নামে ১০ শতক জমি রেকর্ড করান। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাকি জমিও তিনি প্রভাব খাটিয়ে দখলে রাখেন।

খসরু শেখের ছোট ভাই ছলিম উদ্দিন এবং তিন বোন—ছালমা, রাহেনা ও কাছমা—স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, খসরু শেখ ও আলিম উদ্দিন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খসরু শেখের পৃথক জন্মনিবন্ধন রয়েছে, যেখানে তার জন্ম ১৯৩৯ সালে এবং মৃত্যু ১৯৫২ সালে উল্লেখ আছে।

স্থানীয় সাহেবের কুটি মসজিদের মোয়াজ্জেম তাইজ উদ্দিনসহ একাধিক প্রবীণ বাসিন্দাও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আলিম উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা—আব্দুল খালেক, আব্দুল মালেক, আব্দুল মজিদ ও হাফিজুর রহমান—অন্য উত্তরাধিকারীদের অংশ বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং তারা নিজেদের খসরু শেখের ওয়ারিশ দাবি করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, জমির ন্যায্য অংশ দাবি করতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো হয়।

ছলিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “ভাই জীবিত থাকতেই জমি ভাগ হয়েছিল। এখন তার ছেলেরা আমাকে মারধর করে জমিতে যেতে বাধা দেয়।”

তিন বোনের অভিযোগ, “আমরা তাদের ফুফু হলেও তারা তা স্বীকার করে না। উল্টো আমাদের অপমান করে। নিজের বাবার জমিতে যাওয়ার সাহস পাই না।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মৃত ব্যক্তির অস্তিত্ব অস্বীকার করে তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতির শামিল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভূমি রেকর্ড, জন্মনিবন্ধন এবং স্থানীয় সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভুক্তভোগী পরিবার ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী উত্তরাধিকার বণ্টনের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24