
মণিরামপুর-আমার সবুজ ঠিকানা
এইখানে ভোর নামে হরিহরের কাঁখে,
কুয়াশার চাঁদর সরিয়ে রোদ এসে ডাকে।
কপোতাক্ষ হাসে, ঢেউয়ে ঢেউয়ে সোনা ঝরে,
মুক্তেশ্বরী বলে, “এই তো শান্তির ঘরে”।
তিন নদীর আঁচলে বাঁধা একটাই নাম-
আমার মা, আমার প্রেম, আমার মণিরামপুর।
রাজগঞ্জের পথে তালের সারি মাথা তোলে,
ত্রিমোহনীর বাঁকে খেজুর পাতা দোলে।
বিলের জলে বেগুনি কচুরি ফুলের মেলা,
ঝাঁপা বাঁওড়ে পানকৌড়ি ডুব দেয় একেলা।
শীতের ভোরে সরালি-বালিহাঁসের ডানা,
লিখে যায় আকাশে-“এই দেশ সবার চেনা”।
একদিন ভবদহ কাঁদত বর্ষার জলে,
দুর্বাডাঙ্গা, নেহালপুর ভাসত চোখের জলে।
এখন বারো-ভেন্টের স্লুইসগেট দাঁড়ায় পাহারায়,
আমডাঙ্গা খাল দিয়ে জল নামে ইশারায়।
ষাট ভাগ জল নেমে গেছে, আশা জাগে বুকে,
ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে-এই তো সুখের মুখে।
চল্লিশ হাজার হেক্টর মাঠ আবার সোনা ফলাবে,
তিনবার ফসল তুলে কৃষক গান গাইবে।
চার লেনের কালো পথে যশোর এখন কাছে,
পঁচিশ মিনিটে শহর, তবু মন পড়ে থাকে গাছে।
বিকেল হলে হরিহরের পাড়ে বসে সবাই,
সূর্য ডোবার রঙে আঁকি জীবনের জলছবি।
‘সবজি ভাণ্ডার’ বলে লোকে, মিথ্যে তো নয়,
কুলটিয়া, ঢাকুরিয়া, চালুয়াহাটিতে জয়।
‘নিরাপদ সবজি গ্রামে’ বিষের নাম নাই,
ড্রিপে ড্রিপে জল পড়ে, ভার্মি সারে ঠাঁই।
মোবাইলেই হাট বসে, ঢাকায় যায় টাটকা,
মধ্যপ্রাচ্যের পথে এবার স্বপ্ন আঁকা।
চাঁচড়া রাজবাড়ির পুকুর আজও কথা কয়,
মুণিরাম রায়ের নামে জনপদের পরিচয়।
কপোতাক্ষের নৌকায় চড়ে সন্ধ্যা নামে ধীরে,
নকশী কাঁথার ফোঁড়ে ফোঁড়ে স্বপ্ন যায় বাহিরে।
হরিহরের তীরে হবে রিসোর্ট, পিকনিকের ভিড়,
‘মণিরামপুর ট্যুরিজম’-এই তো নতুন নীড়।
একশ’ শয্যার হাসপাতাল, ওয়াইফাই পৌরপাড়ায়,
ছয়শ’ বিশ কোটি রেমিট্যান্সে গ্রাম শহর দাঁড়ায়।
তবু মাটির মানুষগুলো মাটির মতোই খাঁটি,
বন্যায় সবাই এক সাথে, ঈদে-পূজায় এক বাটি।
তরুণরা আজ শপথ নেয় ‘গ্রিন ক্লিন’ নামে,
প্লাস্টিক কুড়ায়, গাছ লাগায়, নদী বাঁচায় দামে।
ঝাঁপার বিলে মাছ ফেরে, পাখি ফেরে ডালে,
‘বার্ড সেফটি জোন’ হোক-এই দাবি কালে কালে।
শোনো মণিরামপুর, তোমায় নিয়ে গর্ব করি,
ইট-পাথরের উন্নয়ন চাই, সাথে সবুজ দরকারি।
আমগাছটা থেকো, পাখির গানটা থেকো,
হরিহরের ঢেউটা থেকো, প্রাণটা বাঁচিয়ে রেখো।
তুমি আমার প্রথম প্রহর, তুমি আমার শেষ,
তোমার বুকেই কবর আমার, তোমার বুকেই দেশ।
নদী দখল রুখব, গাছ কাটা বন্ধ হবে,
তাহলেই নতুন আলোয় তুমি আবার জাগবে।
জাগো মণিরামপুর, জাগো সবুজের গানে,
বিশ্ব দেখুক-মফস্বলও পারে জিততে প্রাণে।
লেখক: বিএম সাব্বির হাসান
মণিরামপুরের আলো-বাতাস-পানিকে ভালোবেসে