1. admin@mhnews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নরসিংদীর মাধবদীতে দুইটি হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, অর্থ দন্ড আড়াইহাজার উপজেলা জামায়াতের হাইজাদী ইউনিয়নে ওয়ার্ড কর্মী-সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিংড়ায় জামতলী-বামিহাল রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আনু মদন পৌর সদরে কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ করলেন মেয়র পদপ্রার্থী এনামুল হক কেন্দুয়ায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে হালট উদ্ধার অভিযান, বিরোধী পক্ষের লোক জন নিয়ে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ নরসিংদীতে মহাসড়কে ডিম ভেঙ্গে পোলট্রি খামারিদের প্রতিবাদ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দলিলকৃত জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আগুন ঘর বাড়ি ভাংচুর আদমদীঘিতে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী ওসমান গ্রেপ্তার দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শামীম তালুকদার (এম.এ) জনপ্রিয়তার শীর্ষে গলাচিপায় যৌথ অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস

কলারোয়ায় ভেজাল মিষ্টি ও দইয়ের রমরমা ব্যবসা: ওজনে কারচুপি, ভোক্তা অধিকারের হস্তক্ষেপ কামনা

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ৪৬ বার পঠিত

জুলফিকার আলী, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মিষ্টির বাজারগুলোতে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটার মহোৎসব চলছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিতিশীলতার অজুহাতে দফায় দফায় মিষ্টির দাম বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে একবার দাম বাড়লে তা আর কমার কোনো লক্ষণ নেই। এর ওপর যোগ হয়েছে মারাত্মক ভেজাল ও ওজনে কারচুপির অভিনব সব কৌশল।
​অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে কলারোয়ার বাজারে খাঁটি গরুর দুধ ছাড়াই তৈরি হচ্ছে সিংহভাগ মিষ্টি। রসগোল্লা, দানাদার, চমচম, কালোজাম, সাদা মিষ্টি কিংবা ছানার জিলাপি—সবকিছুতেই ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ভারতীয় গুঁড়ো দুধ। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী মাত্র ১ কেজি গুঁড়ো দুধের সাথে চিনি ও অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে তৈরি করছে প্রায় ৭ কেজি মিষ্টি! বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গুঁড়ো দুধের দাম প্রায় ৫৫০ টাকা এবং চিনির কেজি ৯৮ টাকা। এই স্বল্প খরচের উপাদান দিয়ে তৈরি মিষ্টি চড়া দামে বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অংকের মুনাফা।
​মিষ্টির পাশাপাশি বাজারে মিলছে ‘দুধ ছাড়া দই’। গুঁড়ো দুধ দিয়ে তৈরি এসব দইয়ের প্রতি পিস ‘মালসা’ বা ‘খোপ’ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে। সচেতন ক্রেতাদের অভিযোগ, এই দইয়ের ওজনে রয়েছে বড় ধরনের কারচুপি। ১ কেজি ওজনের কথা বলে বিক্রি করা প্রতিটি খোপে প্রকৃতপক্ষে দই থাকে মাত্র ৭০০ গ্রাম। অথচ ক্রেতাদের কাছ থেকে ১ কেজির দামই রাখা হচ্ছে।
​খাঁটি দইয়ের চেনার উপায় সম্পর্কে স্থানীয় এক অভিজ্ঞ মিষ্টি দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “অরিজিনাল গরুর দুধের দই সাধারণত বেশ নরম হয় এবং এতে সর কম পড়ে। বাজার থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথেই তা কিছুটা গলে যাওয়ার মতো নরম হয়ে যায়। কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা এখন চকচকে ও শক্ত সরওয়ালা দই পছন্দ করেন। তাই বেশি চাহিদার কারণে এবং অধিক লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা গুঁড়ো দুধ দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে শক্ত সর তৈরি করে দই বিক্রি করছেন।”
​ওজনে ঠকানোর এখানেই শেষ নয়; মিষ্টি বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী কাগজের ঠোঙ্গা (প্যাকেট), যার একেকটির ওজন ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত। অর্থাৎ, ১ কেজি মিষ্টি কিনলে ক্রেতা মূলত ৮৫০ গ্রাম মিষ্টি পাচ্ছেন, বাকিটা ঠোঙ্গার ওজন। একইভাবে ৭০০ গ্রামের দইয়ের মালসা ফ্রিজে রেখে বরফ জমিয়ে সেটির ওজন সাড়ে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত বানিয়ে ক্রেতাদের গছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
​বাজারের এমন নৈরাজ্য ও প্রতারণায় ক্ষুব্ধ কলারোয়ার সাধারণ ক্রেতা ও এলাকাবাসী। মিষ্টির নামে এই ভেজাল ও ওজনে কারচুপি বন্ধ করতে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে তারা সাতক্ষীরা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। একই সাথে জনস্বার্থে উপজেলার প্রতিটি মিষ্টির দোকানে নিয়মিত ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24