
প্রতিনিধি: মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার পশ্চিম সাতবাড়ীয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আরিফ শাহ পাড়া শাহী জামে মসজিদ ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে সুপরিচিত। প্রাচীন এই মসজিদটি দীর্ঘকাল ধরে মুঘল আমলের স্মৃতি বহন করে আসছে এবং এলাকাবাসীর কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিনশত বছরেরও বেশি আগে মুঘল আমলে এ অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি আজও বহন করছে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা। জনশ্রুতি রয়েছে, চট্টগ্রাম বিজয়ের সময় সংঘটিত যুদ্ধে নিহত ২২ জন বীর সেনা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সমাধি মসজিদের পাশেই অবস্থিত।
মসজিদটি শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। এখানে সুফি সাধক এবং তৎকালীন মুসলিম শাসকদের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, যা ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বর্তমানে স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্যোগে গঠিত একটি কার্যকরী কমিটি মসজিদ, মাদ্রাসা ও সংলগ্ন মাজার কমপ্লেক্সের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের প্রচেষ্টায় নিয়মিত ইবাদত, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মাজারের পরিচালনা কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২২ মার্চ (রবিবার) মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানে এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের অংশগ্রহণে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মোহাম্মদ লোকমান ফারুকীকে সভাপতি এবং রফিক উদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আগামী তিন বছরের জন্য নির্বাচিত করা হয়। নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তারা মসজিদ, মাদ্রাসা ও মাজারের উন্নয়ন, ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উন্নয়ন করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য আরও সুসংহতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
পেশকার মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, চন্দনাইশ উপজেলার দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে আরিফ শাহ পাড়া শাহী জামে মসজিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে আগমন করেন।