
স্টাফ রিপোর্টার:- আল ইমরান
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের ছোট পারুলিয়া গ্রামে টিআর প্রকল্পের পুনর্নির্মিত সরকারি রাস্তার পুরনো ইট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ছোট পারুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে নেমে যাওয়া সড়ক ধরে দক্ষিণ পাড়ার শেষ মাথা, গাজী বাড়ি পর্যন্ত ফুট বাই ফুট রাস্তা থেকে ইট তোলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার পুরনো ইট তুলে বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইটগুলো সাজাইল বাজারের সেনেটারি সামগ্রী বিক্রেতা মো. নান্নু মিয়া ও স্থানীয় বাসিন্দা ফারুকের কাছে বিক্রি করা হয়।
৬নং ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ লিয়াকত আলী ওরফে লিটু মেম্বার ইট বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ইট বিক্রির আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আওয়াল হোসেনকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। মেম্বার আরও দাবি করেন, বিক্রিত ইটের টাকা পারুলিয়া ঈদগাঁ মাঠ উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আওয়াল হোসেন বলেন, “রাস্তা পুনঃনির্মাণ শেষে কিছু পুরনো ভাঙা ইট অবশিষ্ট থাকার কথা সিপিসি মো. লিয়াকত আলী মেম্বার আমাকে জানিয়েছিলেন। তখন আমি ইটগুলো নিকটস্থ মসজিদে দান করে দেয়ার কথা বলি। কিন্তু সেই ইট বিক্রি করা হয়েছে এবং টাকা ঈদগাঁয় ব্যয় করা হয়েছে—এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিক্রির কোনো অনুমতি আমি দেইনি।”
টিআর প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, কাজ শেষে অবশিষ্ট মালামাল ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করা যায় না। লিখিত অনুমোদন নিয়ে সরকারি বিধি মোতাবেক নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হয়।
পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ” তখন আমি দ্বায়িত্বে ছিলাম না। মেম্বার ও প্রকৌশলীর বক্তব্য সাংঘর্ষিক। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী বলে আমি মনে করি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শাহীন মিয়া জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছোট পারুলিয়ার বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।