1. admin@mhnews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নরসিংদীর মাধবদীতে দুইটি হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, অর্থ দন্ড আড়াইহাজার উপজেলা জামায়াতের হাইজাদী ইউনিয়নে ওয়ার্ড কর্মী-সম্মেলন অনুষ্ঠিত সিংড়ায় জামতলী-বামিহাল রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আনু মদন পৌর সদরে কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ করলেন মেয়র পদপ্রার্থী এনামুল হক কেন্দুয়ায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে হালট উদ্ধার অভিযান, বিরোধী পক্ষের লোক জন নিয়ে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ নরসিংদীতে মহাসড়কে ডিম ভেঙ্গে পোলট্রি খামারিদের প্রতিবাদ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দলিলকৃত জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আগুন ঘর বাড়ি ভাংচুর আদমদীঘিতে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী ওসমান গ্রেপ্তার দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শামীম তালুকদার (এম.এ) জনপ্রিয়তার শীর্ষে গলাচিপায় যৌথ অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস

দারিদ্র্যের টিনের ঘর থেকে বিশ্ব ফুটবলের মহারাজা: রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপের মহাকাব্য

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৭০ বার পঠিত

ডেক্স রিপোর্ট

একসময় মাদেইরা দ্বীপের একটি ছোট্ট টিনের ঘরে বসে যে ছেলেটি স্বপ্ন দেখত ফুটবল দিয়ে পৃথিবী জয় করার, আজ সেই ছেলেটিই কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার নাম। তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—একটি নাম, একটি ইতিহাস, একটি কিংবদন্তি।
বিশ্বকাপের আলোয় যখন আবারও ফুটবল বিশ্ব মেতে উঠেছে, তখন সকলের চোখ যেন খুঁজছে সেই পরিচিত ৭ নম্বর জার্সিকে। হয়তো এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। আর তাই প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি গোল যেন ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখছে।
১৯৮৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে জন্ম নেওয়া রোনালদোর শৈশব ছিল অভাব আর সংগ্রামে ভরা। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই দুর্বল ছিল যে অনেক সময় মৌলিক চাহিদাও পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ত।
কিন্তু ভাগ্যের কাছে হার মানেননি তিনি। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল ছিল তার নেশা, তার স্বপ্ন, তার জীবন। বন্ধুদের সঙ্গে রাস্তায় খেলতে খেলতেই জন্ম নেয় এক অদম্য যোদ্ধা।
মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনে পাড়ি জমান। তখন হয়তো কেউ ভাবতেও পারেনি, এই কিশোর একদিন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হবে।
স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমি থেকে শুরু হওয়া যাত্রা পৌঁছে যায় ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের স্নেহ ও প্রশিক্ষণে এক কিশোর রূপ নেয় বিশ্বমানের তারকায়।
এরপর আসে রিয়াল মাদ্রিদের সোনালি অধ্যায়।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারি কাঁপিয়ে একের পর এক গোল। চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, অসংখ্য রেকর্ড এবং ৪৫০ গোল—যা তাকে ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।
জুভেন্টাসে নতুন চ্যালেঞ্জ, তারপর আবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরা। আর বর্তমানে সৌদি আরবের আল-নাসরে খেলেও প্রমাণ করে চলেছেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা।
ক্লাব ফুটবলে যত সাফল্যই আসুক, রোনালদোর হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের নাম পর্তুগাল।
২০০৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের সবচেয়ে বড় ভরসা।
২০১৬ সালে ইউরো জয়—যে ট্রফি পর্তুগালের ইতিহাসে প্রথম।
২০১৯ সালে নেশনস লিগ জয়।
আর এখন, বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের লড়াই।
বিশ্বকাপ মানেই আবেগ। আর রোনালদোর জন্য এটি শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি একটি স্বপ্ন, একটি প্রতিজ্ঞা।
স্টেডিয়ামে যখন হাজারো দর্শক “রোনালদো! রোনালদো!” বলে গর্জে ওঠে, তখন মনে হয় সময় যেন থমকে গেছে।
তিনি দৌড়াচ্ছেন, লড়ছেন, গোলের সন্ধানে ছুটছেন—যেন সেই ছোট্ট মাদেইরার ছেলেটি এখনও নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলেছে।
হয়তো এই বিশ্বকাপের পর আর দেখা যাবে না তাকে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। কিন্তু ইতিহাস বলে, কিংবদন্তিরা কখনও বিদায় নেন না; তারা স্মৃতির পাতায় অমর হয়ে থাকেন।
দারিদ্র্য, সংগ্রাম, অশ্রু, ত্যাগ, পরিশ্রম এবং অদম্য আত্মবিশ্বাস—এই সবকিছুর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জীবন।
মাদেইরার সেই কিশোর আজ কোটি মানুষের স্বপ্নের প্রতীক।
বিশ্বকাপের আলো নিভে যাবে, গ্যালারি ফাঁকা হবে, ম্যাচ শেষ হবে; কিন্তু CR7-এর গল্প থেকে যাবে যুগের পর যুগ।
কারণ রোনালদো শুধুমাত্র একজন ফুটবলার নন, তিনি একটি জীবন্ত কিংবদন্তি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24