
নিজস্ব প্রতিবেদক | জামালপুর
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাবেক চেয়ারম্যান একে এম বদিউজ্জামান খান বাদলকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের অভিযোগ, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়নের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একে এম বদিউজ্জামান খান বাদল ছাত্রজীবনে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে দুরমুঠ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘ সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দাবি, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে।
কিছু বিএনপি নেতাকর্মীর অভিযোগ, দলীয় ঐক্যে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় এ ধরনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ স্থানীয় রাজনীতিতে প্রায়ই দেখা যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের উন্নয়ন, জনসেবা, সুশাসন ও জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের, এবং এ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান এসব আলোচনা আগামী দিনে দুরমুঠ ইউনিয়নের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।