
নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ এনামুল করিম দিদার সিদ্দিকী
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপুর বাজারে সরকারি ভিজিএফ কর্মসূচির ১৫ টাকার চাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বৌলাই নদীর তীরে অবস্থিত বাবুপুর বাজারকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুপুর বাজারে অবস্থিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত ভিজিএফের চাল অবৈধভাবে ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে আসছে। এ কাজে কয়েকজন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সম্প্রতি ইউনিয়নের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বাবুপুর বাজারে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নামও উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন, প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মায়ের দোয়া ফার্মেসি দিয়ে ৫ নং সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোঃ শাহ্ আলম চৌধুরী (ডাঃ আলম)ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ইউনিয়ন কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মোঃ মুখলেছুর রহমান চৌধুরী একটি মনোহারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির চাল বেচাকেনার পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় নিচে উল্লেখ্য করা হলো,১- মোঃ গোলাপ নুর, পিতা মরহুম আব্দুল মান্নান মাতাববর, সাং নুর পুর,৯নং ওয়ার্ড,২- মোঃ শাহ্ আলম (চৌধুরী ডাঃ আলম) ইউনিয়নের ফেরারী চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা চৌধুরী দিপার আত্মীয় স্বজনের মধ্যে রয়েছে সকলের পরিচয়, প্রয়াত মুন্সী ফরগুজ আলী ওরফে (দুপুরীয়া মুন্সী) এবং ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মোঃ মুখলেছুর রহমান চৌধুরী ও তাঁদের সেল্টার দাতাদের পরিচয়, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী ( জাহিদ চৌধুরী), ইউনিয়ন কৃষক দলের নেতা মোঃ হাবিবুর রহমান চৌধুরী (ওরফে হাবুল্লা) এবং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মীর কাসেম আলীর সঙ্গে যোগসাজশে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে লেয়াজু করেই
এলাকার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কেউ এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা বা প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভিজিএফ কর্মসূচির চাল দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। যদি এসব চাল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে না পৌঁছে অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে, তবে তা শুধু সরকারি নীতিমালার লঙ্ঘনই নয়, বরং দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণের সামিল।
এ বিষয়ে প্রশাসন, খাদ্য বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
(প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।)