
মোঃ শাহজাহান কবির প্রধান
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘী থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোর মানিক হোসেনের মরদেহ ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিবরণ, যা পুরো এলাকায় তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা ইউনিয়নের মালাদাম গ্রামের বাসিন্দা মানিক দীর্ঘদিন ধরে নিজের আপন বোন সমলাকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করত। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে বারবার ব্ল্যাকমেইল এবং ধর্ষণ করা হতো।
দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে সমলা শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধের পথ বেছে নেয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সে শাহাবুদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় মানিককে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমলা কৌশলে মানিককে মহারাজার দিঘীর পাড়ে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে হত্যা করে মরদেহ দিঘীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা জল্পনা চলছিল। তবে তদন্তের অগ্রগতিতে একের পর এক তথ্য সামনে আসায় ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। পারিবারিক নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল এবং প্রতিশোধের জটিল সম্পর্কের এই নির্মম পরিণতি পঞ্চগড়ে বিরল বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত এখনও চলমান। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।