
হরিনাকুন্ডু উপজেলা প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় এক স্থানীয় সংবাদকর্মীর ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ জুন (বুধবার) রাত আনুমানিক ৮:৩০ ঘটিকায় উপজেলার ২নং জোড়াদাহ ইউনিয়নের বেলতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আহত সংবাদকর্মীর নাম সবুজ শাহরিয়ার। জানা গেছে, আহত সবুজ শাহরিয়ার দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় কর্মরত আছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাংবাদিক সবুজ শাহরিয়ার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত সাংবাদিক সবুজ শাহরিয়ার অভিযোগ করে বলেন,
আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় অতর্কিতভাবে বাবু চেয়ারম্যান সমর্থিত রকি,সুজন,সোহেল সহ আরো অনেকেই আমার ওপর লোহার রড দিয়ে হামলা করে এসময় আর কাউকে আমি চিনতে পারিনি। মারধরের একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে হাসপাতালে আমার জ্ঞান ফেরে। ২নং জোড়াদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুর লোকজনই আমার উপর এই হামলা চালিয়েছে। কেন এবং কি কারণে আমার উপর হামলা চালিয়েছে তা আমি জানিনা তবে আমার কোন দোষ নেই।
সবুজ শাহরিয়ারের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একই ধরণের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
হামলার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ২নং জোড়াদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেন,
তাকে কে বা কাহারা মারধর করেছে তা আমার জানা নেই। সবুজ শাহরিয়ার সম্পর্কে আমার ভাতিজা,আমি ওকে খুব ভালোবাসি। ঘটনার সময় আমি জোড়াদাহ বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলাম। তখনই শুনতে পাই সবুজের ওপর হামলা হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আমি সবুজের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাইনি। আমার ভাতিজা হিসেবে আমি অবশ্যই তাকে হাসপাতালে দেখতে যাবো এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
এব্যাপারে অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান,আহত সাংবাদিকের মাথা ও পিঠে বেশ আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নত ও উন্নততর চিকিৎসার জন্য তার স্বজনরা তাকে অন্য হাসপাতালে রেফার (স্থানান্তর) করিয়ে নিয়ে গেছেন।
এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মুঠো ফোনে জানান,আমরা হামলার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলেই বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।