
লাহোরে পাকিস্তানকে ৪১ রানে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল অস্ট্রেলিয়া, শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে সিরিজের ভাগ্য
প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর অনেকেই হয়তো তরুণ অস্ট্রেলিয়া দলকে হিসাবের বাইরে রেখেছিলেন। কিন্তু ক্রিকেটের সৌন্দর্যই হলো প্রত্যাবর্তনের গল্প। সেই গল্পই লিখল জশ ইংলিসের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ৪১ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে সফরকারীরা। ফলে এখন সিরিজের শেষ ম্যাচই হয়ে উঠেছে অলিখিত ফাইনাল।
প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের স্পিন ঘূর্ণিতে মাত্র ২০০ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। অভিষিক্ত স্পিনার আরাফাত মিনহাসের ৫ উইকেট এবং বাবর আজমের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছিল স্বাগতিকরা। সেই জয়ে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান।
কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে দেখা গেল ভিন্ন এক অস্ট্রেলিয়াকে। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও ক্যামেরন গ্রিনের ৫৩ ও অধিনায়ক জশ ইংলিসের ৫১ রানের দৃঢ় ইনিংসে ২৩১ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় অজিরা। পাকিস্তানের হয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি তিন উইকেট শিকার করলেও অস্ট্রেলিয়াকে বড় ধস নামাতে পারেননি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের ইনিংস শুরু থেকেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৭৮ রান উঠতেই সাজঘরের পথ ধরেন ৬ ব্যাটার। গ্যালারিজুড়ে তখন নেমে আসে নীরবতা। বিপর্যয়ের মাঝেও একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান শাদাব খান। ১০৪ বলে ৭১ রানের সংগ্রামী ইনিংস খেলে তিনি আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখলেও অন্য প্রান্তে সঙ্গীর অভাবে সেই আলো বেশিক্ষণ টেকেনি।
অস্ট্রেলিয়ার পেসার নাথান এলিস ছিলেন পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের প্রধান নায়ক। আগুনঝরা বোলিংয়ে মাত্র ৩৩ রানে ৪ উইকেট শিকার করে তিনি পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। স্পিনার ম্যাথু শর্টও গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে জয়কে নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ৪৪ ওভারে ১৯০ রানেই অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান।
এক ম্যাচ আগে যে পাকিস্তান ছিল আত্মবিশ্বাসে টগবগে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই দলই হেরে বসেছে বড় ব্যবধানে। অন্যদিকে পরাজয়ের ধাক্কা সামলে সিরিজে প্রাণ ফিরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
এখন সব হিসাব-নিকাশ গিয়ে ঠেকেছে শেষ ম্যাচে। ৪ জুন লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই ম্যাচে জয়ী দলই ঘরে তুলবে সিরিজের ট্রফি।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য তাই অপেক্ষা করছে আরেকটি রোমাঞ্চকর সন্ধ্যা—যেখানে একদিকে স্বাগতিক পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্পকে পূর্ণতা দেওয়ার মঞ্চ।