1. admin@mhnews24.com : admin :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নজিপুরে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা নওগাঁয় বায়ুদূষণ রোধে মোবাইল কোর্ট, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা নওহাটা মোড়ে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত জনসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় প্রভাষক গাজী ফারুকে আজম মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সম্প্রীতি অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় ঘরের তালা ভেঙে আরএফএল কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, বাইকসহ চম্পট রুমমেট অন্তর গফরগাঁও-মাওনা সড়ক ভূমি অধিগ্রহণে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র সিলেট বিভাগের চেলানদী রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পদক্ষেপ, ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ইসলামের সুমহান আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ

ভাঙ্গুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগে জেলা প্রশাসনের অভিযান, সরেজমিনে তদন্তে এসিল্যান্ড

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ১০৩ বার পঠিত

মোঃ সুজন আহম্মেদ ক্রাইম রিপোর্টার

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি ঘর বিক্রি, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত রাখা এবং পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া, মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান।

মঙ্গলবার উপজেলার চর-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বিক্রি হয়ে যাওয়া ও দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ঘরগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২০-২১ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মধ্যে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নির্মিত ১০১টি আশ্রয়ণ ঘরের মধ্যে অন্তত ৩৫টি ঘর ৮০ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৫টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পরিত্যক্ত ঘরে নিয়মিত জুয়া, মাদক সেবন ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে, যা এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁর নির্দেশনায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এই দ্রুত উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের জন্য সরকারের অন্যতম মানবিক উদ্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্প। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তির অনিয়ম, সরকারি ঘর বিক্রি এবং তদারকির ঘাটতির কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য অনেক ক্ষেত্রে ব্যাহত হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের কাছে সরকারি ঘর পুনর্বণ্টনের দাবি জানান।

সচেতন মহলের মতে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর জেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তদন্ত শেষে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিদর্শন শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্তে যেসব উপকারভোগী সরকারি ঘর বিক্রি করেছেন অথবা বরাদ্দ পাওয়ার পরও সেখানে বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্দ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাতিল করা হবে। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের নামে নতুন করে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকারের এই মানবিক প্রকল্পের কোনো ধরনের অপব্যবহার বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24