
লিখনীতে: ইকমজেডি উজ্জ্বল
একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল সরকারের একক প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে না। একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়তে সরকার, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকের সম্মিলিত ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ অপরিহার্য। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা জনগণের জীবনমান, নৈতিকতা, সুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। কারণ গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশন করে না; বরং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে, অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলে, জনগণকে সচেতন করে এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই গণমাধ্যমের প্রতিটি সংবাদ হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ।
একইভাবে সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদেরও উচিত ব্যক্তিগত বা দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। তাদের চিন্তা, গবেষণা ও গঠনমূলক মতামত একটি জাতির অগ্রযাত্রায় দিকনির্দেশনা দিতে পারে। সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেই সমালোচনা হতে হবে তথ্যভিত্তিক, যুক্তিসঙ্গত এবং সমাধানমুখী। কারণ দায়িত্বশীল সমালোচনা রাষ্ট্রকে দুর্বল করে না; বরং আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করে তোলে।
দেশের সমস্যাগুলো তুলে ধরা যেমন গণমাধ্যমের দায়িত্ব, তেমনি সম্ভাবনা, সাফল্য ও ইতিবাচক উদ্যোগগুলোও জনগণের সামনে তুলে ধরা সমান গুরুত্বপূর্ণ। হতাশা নয়—আশা, বিভেদ নয়—ঐক্য, অপপ্রচার নয়—সত্য এবং সংঘাত নয়—সহযোগিতার সংস্কৃতিই একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি।
আজ আমাদের প্রয়োজন এমন একটি গণমাধ্যম, যা সত্যের পক্ষে আপসহীন থাকবে; এমন একটি সুশীল সমাজ, যা জনগণের ন্যায্য অধিকার ও জাতীয় স্বার্থে নির্ভীকভাবে কথা বলবে; এবং এমন এক নাগরিক সমাজ, যারা শুধু সমালোচনা নয়, বরং নিজেদের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করবে।
আসুন, আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশপ্রেম, সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিই। কারণ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; এটি আমাদের সবার সম্মিলিত অঙ্গীকার।
> “দেশপ্রেম কেবল আবেগের বিষয় নয়; এটি দায়িত্ব, সততা, ন্যায়বোধ ও জনকল্যাণে নিবেদিত কর্মের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রমাণ করতে হয়। সরকার, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিক—এই তিন শক্তির ঐক্যেই গড়ে উঠতে পারে একটি উন্নত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।”
— লিখনীতে: ইকমজেডি উজ্জ্বল