
নিজস্ব প্রতিবেদক:-ই.ক.ম.জী.ডে, উজ্জ্বল
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানা এলাকায় পরিচালিত পৃথক তিনটি মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১০ কেজি ৩৫ গ্রাম গাঁজা, ১৪ গ্রাম হেরোইন, ৪টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির অভিযোগে ১১ হাজার ২০০ টাকা। তবে অভিযানে গ্রেপ্তার আল-আমিন নামে এক ব্যক্তির পরিবার দাবি করেছে, তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি এবং তাকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৩০ জুন কাশিমপুর থানা পুলিশ ওয়ারেন্ট তামিল এবং মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুরাবাড়ী, শৈলডুবী ও সারদাগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুরাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালেকা খাতুন (৪৪), আল-আমিন (৩৮), হাফেজ (৩০), সোহেল (৩৮) ও আশিক (১৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মালেকা খাতুন ও আল-আমিনের কাছ থেকে ৫ কেজি করে মোট ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এছাড়া অপর তিনজনের কাছ থেকে ৩৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাফেজ, সোহেল ও আশিক উদ্ধারকৃত গাঁজা মালেকা খাতুন ও আল-আমিনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই দিন বিকেলে শৈলডুবী এলাকায় পৃথক অভিযানে রুবেল (৩৫) ও ভুট্টো মণ্ডল ওরফে আনোয়ার (৪৫)-কে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অপরদিকে সারদাগঞ্জের কাজী মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেলোয়ার হোসেন (২৭), জিয়ারুল ইসলাম (১৯) ও হিরা ভূইয়া (২৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাশিমপুর নয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল বাতেন (৩৮) ও আকাশ (২২)-কে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট ১৪ গ্রাম হেরোইন এবং মাদক বিক্রির ১১ হাজার ২০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এদিকে গ্রেপ্তার আল-আমিনের পরিবার পুলিশের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জানিয়েছে, তার কাছ থেকে কোনো ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, আল-আমিন একজন নির্দোষ ব্যক্তি এবং তাকে ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধারের অভিযোগে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গেও কথা বলে এমন দাবি পাওয়া গেছে যে, আল-আমিনের কাছ থেকে কোনো জব্দকৃত মাদক উদ্ধার হয়নি। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোল্লা খালিদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দাবি ও গ্রেপ্তারকৃত এক আসামির পরিবারের পাল্টা অভিযোগের কারণে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।