
নিজস্ব প্রতিবেদক:-মিসেস চামেলী আক্তার প্রিয়া
ভোলার লালমোহন উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজছাত্র মো. নয়ন (১৯) হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জনাকীর্ণ সড়কে ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি আঘাতে নিহত হন তিনি। হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ আল মানিক (১৮) রক্তমাখা দেশীয় অস্ত্রসহ সরাসরি লালমোহন থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনার নেপথ্যে প্রেমঘটিত বিরোধ নাকি পূর্ব শত্রুতা—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে লালমোহন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বনির্ভর রোড এলাকায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত মো. নয়ন লালমোহন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বিশিষ্ট ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ডা. আজহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মানিক লালমোহন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে এবং লাঙ্গলখালী আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় নয়ন স্বনির্ভর রোড এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত মানিক হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় নয়ন সড়কে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার পর পালিয়ে না গিয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মানিক সরাসরি লালমোহন থানায় উপস্থিত হন। পুলিশের কাছে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাকে তাৎক্ষণিক হেফাজতে নেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
খবর পেয়ে লালমোহন থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আওলাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রেমঘটিত বিরোধ কিংবা পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।