
মো. আরফান আলী।
জীবন যখন সবসময় আরামে আর স্বাচ্ছন্দ্যে কাটে, তখন মানুষ অনেক কিছু দেখতে পায় না। কিন্তু যখন একটু অভাব, একটু কষ্ট, একটু সংগ্রাম থাকে—তখন চোখ খুলে যায়। তখন বাস্তবতা তার আসল রূপে ধরা দেয়।
অভাবে বড় হওয়া মানুষ সহজে অন্যের কষ্ট বুঝতে পারে। কারণ সে নিজে সেই পথ হেঁটেছে। যার পেটে ক্ষুধার জ্বালা লেগেছে, সে অন্যের খালি থালা দেখলে চুপ করে থাকতে পারে না। যার শীতে কাঁপতে হয়েছে, সে রাস্তার কুকুরটাকেও কম্বলের কথা ভাবে। যে নিজে অপমান সহ্য করেছে, সে অন্যের অপমানে সহজে হাসতে পারে না।
এই অভাবই শেখায়—মানুষ চেনার সবচেয়ে সহজ উপায়।
টাকা থাকলে সবাই হাসে, সবাই ভালোবাসা দেখায়। কিন্তু অভাবের দিনে যারা পাশে থাকে, তারাই আসল মানুষ। যারা সুখের দিনে চারপাশে ঘুরঘুর করে আর দুঃখের দিনে অদৃশ্য হয়ে যায়, তাদের চিনতে আর বাকি থাকে না।
অভাবে বড় হওয়া মানুষের মনে একটা গভীর সহানুভূতি জন্মায়। সে জানে—জীবন কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে। তাই সে অন্যকে ছোট করে দেখে না, অহংকার করে না, অপ্রয়োজনে কাউকে আঘাতও করে না। কারণ সে জানে, আজ যার হাতে সব আছে, কাল তারও সব চলে যেতে পারে।
অভাব শেখায় কৃতজ্ঞতা।
এক টুকরো রুটি, এক গ্লাস ঠান্ডা পানি, একটা পরিষ্কার বিছানা—এসব যে কত বড় আশীর্বাদ, তা শুধু অভাবী মানুষই ঠিকঠাক বোঝে। যারা সবসময় পেয়ে এসেছে, তারা অনেক সময় এই ছোট ছোট জিনিসের মূল্যই বোঝে না।
তাই বলি—
একটু অভাবে বড় হওয়া ভালো।
কারণ এতে মানুষটা ভিতর থেকে পাকা হয়।
সোনা যেমন আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়, মানুষও তেমনি অভাবের আগুনে পুড়ে সুন্দর, সংবেদনশীল আর বাস্তববাদী হয়ে ওঠে।
যারা শুধু স্বাচ্ছন্দ্যে বড় হয়, তারা অনেক সময় সুন্দর থাকে শুধু বাইরে।
কিন্তু যারা অভাবের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে, তারা সুন্দর হয় ভিতর থেকে।
আর সেই সৌন্দর্য কখনো ম্লান হয় না।
–সম্পাদক, উজ্জ্বল বাংলাদেশ