
স্টাফ রিপোর্টারঃ
সমাজের প্রতিটি স্তরে আজ এক অদৃশ্য অস্থিরতা ও মানসিক অশান্তি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, কর্মজীবী কিংবা ব্যবসায়ী— প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে অসন্তুষ্ট ও মানসিক চাপে ভুগছেন। এমন বাস্তবতা তুলে ধরে সমাজসেবক ও মানবিক সংগঠক বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন বলেছেন, “মানুষ তার নিজ নিজ অবস্থানে অসুখী। যার যা আছে, সে তা নিয়ে সন্তুষ্ট নয়; বরং অন্যের জীবনকে সুখী মনে করে নিজেকে কষ্ট দেয়।”
তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে মানুষ বাহ্যিক চাকচিক্য, প্রতিযোগিতা ও অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতার পেছনে ছুটতে গিয়ে নিজের বাস্তব সুখ ও মানসিক শান্তি হারিয়ে ফেলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৃত্রিম জীবনধারা অনেকের মনে হতাশা, হীনমন্যতা ও অস্থিরতা তৈরি করছে। মানুষ এখন নিজের অর্জনের চেয়ে অন্যের সফলতা নিয়ে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন আরও বলেন,
“একজন দিনমজুর ভাবে চাকরিজীবীরা সুখে আছে, চাকরিজীবী ভাবে ব্যবসায়ীরা ভালো আছে, আবার ব্যবসায়ীরা ভাবে বিদেশে থাকা মানুষ বেশি সুখী। কিন্তু বাস্তবে প্রত্যেক মানুষের জীবনেই কোনো না কোনো দুঃখ, সংগ্রাম ও না বলা কষ্ট থাকে।”
তিনি মনে করেন, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়া, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য এবং পারস্পরিক সহানুভূতির অভাব মানুষের মানসিক অশান্তির অন্যতম কারণ। বর্তমানে মানুষ অর্থ উপার্জনের পেছনে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে পরিবার, সম্পর্ক ও আত্মিক শান্তির গুরুত্ব অনেকেই ভুলে যাচ্ছে।
তিনি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“অন্যের জীবনের সাথে নিজের জীবন তুলনা না করে, নিজের অবস্থানকে সম্মান করতে হবে। অল্পতে তুষ্ট থাকতে শিখতে হবে এবং মানবিক মূল্যবোধ, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই সমাজে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনে সুখের সবচেয়ে বড় উৎস হলো মানসিক প্রশান্তি, সততা, পারিবারিক বন্ধন এবং মানবতার চর্চা। শুধুমাত্র অর্থ বা বিলাসিতা কখনো প্রকৃত সুখ নিশ্চিত করতে পারে না।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মানুষের মধ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মিক চর্চা কমে যাওয়ায় মানসিক অস্থিরতা বাড়ছে। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ— সকল পর্যায়ে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে তারা মনে করেন।