
প্রতিবেদক ইয়ারুল ইসলাম
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে জননিরাপত্তা এখনো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলাম।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট-এর ৭ নম্বর ঘাটে আবারও একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা দেশের নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত নৌ-পুলিশের তৎপরতায় যাত্রীরা আগে থেকেই বাস থেকে নেমে যাওয়ায় অন্তত ৪২ জন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। তবে বাসচালক ঝন্টু আলী ও তার সহকারী শাকিল হোসেন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এ্যাডঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, “মাত্র আড়াই মাস আগে একই ঘাটে আরেকটি বাস নদীতে পড়ে গিয়ে ২৬ জন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। এত বড় প্রাণহানির পরও যদি ঘাটের অবকাঠামো, র্যাম, পন্টুন এবং যানবাহন ওঠানামার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন না ঘটে, তাহলে এটি দায়িত্বশীলতার চরম ব্যর্থতা।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুপারিশ বাস্তবায়নের খবর পাওয়া যায় না। ফলে একই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে এবং সাধারণ মানুষকে এর খেসারত দিতে হচ্ছে।”
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অবিলম্বে দৌলতদিয়া ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিবৃতির শেষে তিনি বলেন, “মানুষের জীবন কোনো পরীক্ষার বিষয় নয়। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর শোক প্রকাশ নয়, বরং আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বারবার দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে এখনো সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না।”