
স্টাফ রিপোর্টার: কবির মোঃ সামসুল আলম ফাইটার।।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে এক টাকায় মিলছে চার চারটি লাউ। এ যেন শায়েস্তা খানের আমল চলছে। কৃষককে এক কেজি মোটা চাল কিনতে হলেও বিক্রি করতে হবে অন্তত ২০০ টি লাউ। ৭৫০ টাকা দরে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে হলে তাদের বিক্রি করতে হবে অন্তত ৩ হাজার লাউ। বর্তমানে এমনি নাজুক দর চলছে আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। লাউ চাষীরা দাম না পেয়ে অনেকেই বাগান কেটে ফেলছেন। অথচ স্থানীয় বাজারে এখনো প্রতি পিস লাউয়ের দর চলছে ২০ টাকা পর্যন্ত। আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার চাষী দুলাল ইসলাম। ৪০ শতক জমিতে লাউয়ের আবাদ করেছিলেন। এই চাষের পেছনে তার মোট খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু সব মিলে লাউ বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ৩ হাজার টাকার। এই টাকা দিয়ে তার মজুরি খরচই উঠবে না বলে জানান এই কৃষক। দুলাল ইসলাম বলেন, ভাবতে পারেন আমরা কৃষকরা লাউ আবাদ করে কতটা লোকসানে আছি। ২ থেকে ৩ হাজার পিস লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না। তাই মনের কষ্টে বাগান কেটে ফেলেছি। লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছি। আমরা কৃষকরা দাম না পেলেও বাজারে ঠিকই প্রতি পিস লাউ ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার লাউ চাষী আনসারুল ইসলাম বলেন, ১০ দিন ধরে লাউয়ের বাগানে কোন পরিচর্যা করছি না। সার কীটনাশকের দাম বাড়তেই আছে। মজুরি নিলে তাকে দিতে হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। আর লাউ বিক্রি হচ্ছে এবার সর্বোচ্চ ৫ টাকা পর্যন্ত। এই দরে আমাদের পুরোটাই লোকসান। এভাবে কষ্টের ফসলের দাম না পেলে মানুষ কৃষি ছেড়ে দিবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, লাউয়ের এবার প্রচুর আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে দারুণ। চাহিদার তুলনায় আবাদ বেশি হওয়ায় দাম পাচ্ছে না চাষিরা। বাইরের বাজারেও দাম নেই। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে পঞ্চগড় জেলায় বছরে লাউয়ের চাষ হয়ে সাড়ে ৫’শ থেকে ৬’শ হেক্টর জমিতে।