
পুলিশের মহাপরিদর্শক যদি বলেন, সরকার অনুমতি দিলে আবারও ক্রসফায়ার করা হবে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—সরকারের অনুমতিই কি এখন বিচারবহির্ভূত হত্যার লাইসেন্স? রাষ্ট্র কি আদালতের পরিবর্তে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নিতে পারে?
অপরাধী যত বড়ই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করা, আদালতে অপরাধ প্রমাণ করা এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়াই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকারের নির্দেশ সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়, ক্ষমতার ইচ্ছা কখনো আইনের বিকল্প হতে পারে না।
তাহলে কি আমরা আবার সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী মানসিকতার দিকে ফিরছি, যেখানে আইনশৃঙ্খলার নামে বিচারহীনতা, ভয়ভীতি ও বিরোধী মত দমনের সংস্কৃতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে? শুধু শাসকের মুখ বদলালেই কি রাষ্ট্রের চরিত্র বদলে যায়?
একবার ভাবুন, ছাত্র, শ্রমিক, রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষ কেন জীবন দিয়েছিলেন? জুলাই কি শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য এসেছিল, নাকি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্য, যেখানে মানুষের জীবন, অধিকার ও ন্যায়বিচার ক্ষমতাবানদের ইচ্ছার কাছে জিম্মি থাকবে না?
যারা দলীয় অন্ধত্বে অন্যায়কেও সমর্থন করেন, তাদের মনে রাখা উচিত—আজ অন্যের ওপর নেমে আসা বিচারহীনতা কাল আপনার দরজাতেও কড়া নাড়তে পারে। অন্যায়ের পক্ষে অন্ধ আনুগত্য শুধু বিবেককে হত্যা করে না, একদিন নিজের অধিকারকেও বিপন্ন করে।
আমরা অপরাধ দমনে কঠোর পুলিশ চাই, কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যার অধিকার নয়। আমরা শক্তিশালী রাষ্ট্র চাই, কিন্তু জবাবদিহিহীন রাষ্ট্র নয়। পুলিশ হোক রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, আর আইন হোক সবার জন্য সমান—ক্ষমতাবান থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত।
তাহলে জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের মূল্য কোথায়, যদি আবারও ক্ষমতার ইচ্ছাই মানুষের জীবনের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে?
শাসক বদলেছে, কিন্তু শাসনের মানসিকতা কি বদলেছে? নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদ নতুন মুখোশ পরে ফিরে আসার অপেক্ষায়?
মনে রাখবেন, রাষ্ট্র কোনো দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। রাষ্ট্র জনগণের, আইন সবার জন্য এবং মানুষের জীবন কোনো রাজনৈতিক স্বার্থের বলি হতে পারে না।
আমরা কি সত্যিই নতুন বাংলাদেশ গড়েছি, নাকি শুধু শাসকের মুখ বদলে পুরোনো ব্যবস্থাকেই বাঁচিয়ে রেখেছি?
— মোঃ গোলাম হায়দার