1. admin@mhnews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গলাচিপায় যৌথ অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-মেয়েসহ ৩ জনের মৃত্যু রুহিয়ায় অবৈধ ৩০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ প্রকাশ্য আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস সমাধিনগর ব্র্যাক শাখা অফিসে সদস্যের মাঝে গার্ডেন টিলার বিতরণ ভালুকায় বিরোধপূর্ণ জমির দখল বুঝিয়ে দিলো আদালত নীলফামারীতে সর্বোচ্চ ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বাগেরহাটের রামপালে প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সিংড়ায় সেলাই মেশিন,টিউবওয়েল ও অনুদানের চেক বিতরণ করলেন এমপি আনু মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ৬ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন টেকনাফের সাংবাদিক আরাফাত সানি স্বামী বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে বাইরে যাওয়ার সুযোগে নারীকে ধর্ষণ।

আশুলিয়ায় নারী শ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টা, জীবন বাঁচাতে চলন্ত বাস থেকে লাফ: চালক গ্রেপ্তার

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত

সাভারঃ মনির মন্ডল
আশুলিয়ায় গভীর রাতে চলন্ত লোকাল বাসে এক নারী পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইতিহাস পরিবহনের একটি বাসের চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে। আত্মরক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে প্রাণ বাঁচান ওই নারী। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার এক সপ্তাহ পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাসচালককে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসের হেলপার এখনও পলাতক রয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন, পিপিএম। এর আগে, একই দিন ভোর রাতে সাভার মডেল থানার রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া চালকের নাম মো. আজিজুল শিকদার ওরফে রাজু (৩৭)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার হরিণহাটি এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পুলিশ জানায়, অভিযানে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যবহৃত ইতিহাস পরিবহনের বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৮৫০৮) জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত হেলপারকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী পোশাকশ্রমিক (২৭) আশুলিয়ার ইপিজেড-১ এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় জুনিয়র অপারেটর হিসেবে কর্মরত। গত ১২ জুলাই নিজ জেলা দিনাজপুর থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে রাতে চন্দ্রা চৌরাস্তায় নেমে আশুলিয়াগামী ইতিহাস পরিবহনের একটি লোকাল বাসে ওঠেন।

বাসটি শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর অন্য সব যাত্রী নেমে গেলে চালক ও হেলপার আর কোনো যাত্রী বাসে উঠতে দেননি। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে বাস থামিয়ে নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু চালক বাস থামানোর পরিবর্তে আরও দ্রুতগতিতে বাস চালাতে থাকেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড ও ইপিজেড এলাকার মধ্যবর্তী নির্জন স্থানে পৌঁছালে বাসের হেলপার তার পাশে এসে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় চালকও তাকে সহযোগিতা করেন। নিজেকে রক্ষার আর কোনো উপায় না দেখে জীবন বাজি রেখে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন ওই নারী। এতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে অন্য একটি বাসের সহায়তায় আশুলিয়া এলাকায় এসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরদিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত চালকের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার বাসটি জব্দ এবং ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক হেলপারকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় আশুলিয়া ও সাভার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গভীর রাতে কর্মস্থল থেকে ফেরা নারী পোশাকশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের গণপরিবহনে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় নারী যাত্রীরা প্রায়ই হয়রানির শিকার হন। তারা গণপরিবহনে সিসিটিভি ক্যামেরা, জিপিএস ট্র্যাকিং, চালক-হেলপারদের পরিচয় যাচাই এবং নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মামলার দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের সাহস কেউ না পায়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24