1. admin@mhnews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গলাচিপায় যৌথ অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-মেয়েসহ ৩ জনের মৃত্যু রুহিয়ায় অবৈধ ৩০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ প্রকাশ্য আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস সমাধিনগর ব্র্যাক শাখা অফিসে সদস্যের মাঝে গার্ডেন টিলার বিতরণ ভালুকায় বিরোধপূর্ণ জমির দখল বুঝিয়ে দিলো আদালত নীলফামারীতে সর্বোচ্চ ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বাগেরহাটের রামপালে প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সিংড়ায় সেলাই মেশিন,টিউবওয়েল ও অনুদানের চেক বিতরণ করলেন এমপি আনু মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ৬ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন টেকনাফের সাংবাদিক আরাফাত সানি স্বামী বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে বাইরে যাওয়ার সুযোগে নারীকে ধর্ষণ।

জলমগ্ন জলরাশি ও গহন বিষাদ: গায়ানায় ফেরিডুবিতে ২৭ লাশ উদ্ধার, কাঠগড়ায় ক্রু ও সিস্টেমের অবহেলা

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রতিবেদন
বিশেষ প্রতিনিধি: মো. সোহেল
​”আটলান্টিকের নোনাজল আর দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলীয় ঢেউয়ের আড়ালে হারিয়ে গেছে বহু প্রাণ। জর্জেটাউন থেকে পোর্ট কাইটুমাগামী একটি যাত্রীবাহী ফেরির সলিলসমাধি ঘটিয়েছে এক গভীর ট্র্যাজেডি—যা গত কয়েক দশকের মধ্যে গায়ানার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সামুদ্রিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।”

​দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানার উপকূলবর্তী উত্তাল সমুদ্রে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ফেরিডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রমত্ত জলে মানুষের জীবন প্রদীপের এমন নিভে যাওয়ার ঘটনায় পুরো গায়ানাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সাথে, দায়িত্বে অবহেলা, মাদক সেবন এবং অব্যবস্থাপনার গুরুতর অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে জলযানের ক্রু ও দায়িত্বরতদের।
​বিপর্যয়ের অন্তরালে: কী ঘটেছিল সেদিন?
​গত শনিবার গভীর রাতে গায়ানার রাজধানী জর্জেটাউন থেকে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের পোর্ট কাইটুমার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল প্রবীণ যাত্রীবাহী ফেরি ‘এমভি বারিমা’ (MV Barima)। ১৯৩৯ সালে নির্মিত প্রাচীন এই জলযানটি যখন উত্তাল সমুদ্রের বুক চিরে গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিল, তখন হঠাৎই মাঝসাগরে এক অতল বিপদের মুখে পড়ে। স্থানীয় সময় মধ্যরাতের ঠিক আগে ফেরিটি থেকে একটি জরুরি বিপদ সংকেত (Distress Call) পাঠানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই আটলান্টিকের ঘাতক ঢেউয়ের তোড়ে সেটি উল্টে গিয়ে সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে যায়।
​প্রাথমিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী ফেরিটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ১৭৯ জন মানুষের থাকার কথা থাকলেও, উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার পর বেরিয়ে আসে এক ভীতিকর সত্য।
​নিখোঁজ ও উদ্ধারের হিসাব: যেখানে পরিসংখ্যানও আর্তনাদ করে
​সরকারি তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘ উদ্ধার অভিযانের পর এখন পর্যন্ত ৬৯ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে সময়ের সাথে সাথে যেমন বাড়ছে মৃতদেহের সংখ্যা, তেমনি দীর্ঘায়িত হচ্ছে নিখোঁজের তালিকাও। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনও ৮৩ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
​উদ্ধারকর্মীরা স্থানীয় মৎস্যজীবী, আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী দল এবং তেল-গ্যাস খাতের প্রাইভেট কোম্পানির আধুনিক স্ক্যানারযুক্ত জলযানের সহায়তায় প্রায় ১,০৪০ বর্গকিলোমিটার এলাক জুড়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ফরাসি গায়ানা থেকে আসা ফরাসি সেনাবাহিনীর ডুবুরি ও চিকিৎসকেরাও এই মহাসংগ্রামে শামিল হয়েছেন।
​ক্রুদের মাদক সেবন ও কাঠগড়ায় সিস্টেমের দুর্নীতি
​এই দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে যখন উদ্ধারকৃতদের প্রকৃত তালিকার সাথে সরকারি প্যাসেঞ্জার ম্যানিফেস্টের অমিল পাওয়া যায়। জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ৩২ জনের নাম মূল যাত্রী তালিকায় ছিল না—যার অর্থ দাঁড়ায়, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ও অননুমোদিত যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। গায়ানার পাবলিক ওয়ার্কস মন্ত্রী জুয়ান এজহিল (Juan Edghill) একে প্রকাশ্য ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালে টিকিটের কালোবাজারি ও হিসাবের বাইরে যাত্রী তোলার যে অভিযোগ ছিল, এই ট্র্যাজেডি যেন তারই এক নির্মম পরিণতি।
​পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয় যখন দুর্ঘটনার পর ফেরির ক্যাপ্টেন এবং অন্তত এক জন ক্রু সদস্যের ড্রাগ টেস্টে মরিয়াজুবা (মারিজুয়ানা) সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়। দায়িত্ব পালনকালে এমন নেশাদ্রব্য গ্রহণের অপরাধে পুলিশ তাদের তৎক্ষণাৎ হেফাজতে নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস (Mark Phillips) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা বা মানবীয় অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
​রাষ্ট্রীয় সান্ত্বনা ও আন্তর্জাতিক আইনি সুরক্ষার কড়া বার্তা
​ঘটনার পরপরই গায়ানার রাষ্ট্রপতি ইরফান আলী (Irfaan Ali) হাসপাতালে ছুটে যান এবং বেঁচে ফেরা যাত্রী ও নিখোঁজ স্বজনদের ভাঙা বুকগুলোর পাশে এসে দাঁড়ান। তিনি এই অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
​পাবলিক ওয়ার্কস মন্ত্রী জুয়ান এজহিল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “ডিউটির সময় মদ্যপান বা মাদক সেবনের বিষয়ে আমাদের সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। ক্যাপ্টেনের ড্রাগ টেস্ট পজিটিভ আসার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর সর্বোচ্চ আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
​জলরাশির নির্মম গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গায়ানার আকাশ-বাতাস। এই দুর্ঘটনা কেবল একটি সাধারণ জলযান বিপর্যয় নয়; এটি অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা আর প্রশাসনিক উদাসীনতার এক চরম দলিল—যেখান থেকে শিক্ষা না নিলে সমুদ্রের বুক বারবার এমন রক্তে আর চোখের জলে লাল হতে বাধ্য।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24