
মোঃ শিহাব উদ্দিন,
ভ্রাম্যমাণ প্রতিদিন (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার আপিল শুনানির দিন আগামী ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত এ তারিখ ধার্য করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অন্য ছয়জন হলেন নজরুল ইসলামের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, তাঁর গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিম।
এ ঘটনায় দুটি হত্যা মামলা করা হয়। নজরুল ইসলাম ও তাঁর চার সহযোগীকে হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেন। অন্যদিকে, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় চন্দনের জামাতা বিজয় কুমার পাল একই থানায় আরেকটি মামলা করেন।
দুটি মামলার বিচার একসঙ্গে সম্পন্ন করে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ৩৫ আসামির মধ্যে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁদের মধ্যে নূর হোসেন ও র্যাব-১১-এর তৎকালীন তিন কর্মকর্তাও ছিলেন। বাকি নয় আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে মামলার নথি থেকে পেপারবুক প্রস্তুত করে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের ২২ মে আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদনের শুনানি শুরু হয়। ৩৩ কার্যদিবসে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ওই বছরের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের রায়ে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। অন্য ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পাওয়া বাকি নয় আসামির সাজাও বহাল রাখা হয়।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ১৫ আসামির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) মাসুদ রানা।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা অন্য ১১ আসামি হলেন মো. এমদাদুল হক, হীরা মিয়া, এ বি মো. আরিফ হোসেন, বেলাল হোসেন, আবু তৈয়্যব আলী, শিহাব উদ্দিন, পূর্ণেন্দু বালা, আবদুল আলীম, মহিউদ্দিন মুন্সী, আলামিন শরীফ ও তাজুল ইসলাম। তাঁরা র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা ও সদস্য।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন র্যাবের সাবেক সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ও এনামুল কবির। এ ছাড়া নূর হোসেনের সহযোগী হিসেবে মামলায় দণ্ডিত মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, আবুল বাশার, রহম আলী, জামাল উদ্দিন সরদার, সেলিম, সানাউল্লাহ সানা ও শাহজাহান রয়েছেন।
বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড বহাল থাকা নয় আসামির মধ্যে কনস্টেবল হাবিবুর রহমানের ১৭ বছর কারাদণ্ড বহাল থাকে। এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল বাবুল হাসান, করপোরাল মোখলেসুর রহমান, ল্যান্স করপোরাল রুহুল আমিন ও সিপাহী নুরুজ্জামানের ১০ বছর করে কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। এ ছাড়া এএসআই বজলুর রহমান ও হাবিলদার নাসির উদ্দিনের সাত বছর করে কারাদণ্ড বহাল থাকে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর মামলাটি এখন আপিল বিভাগের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।