
মোঃ শিহাব উদ্দিন
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে এক দিনে ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার সাতটি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে বিভিন্ন মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তি এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হন। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জেলা পুলিশের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানের এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানে ৬৩ ক্যান বিয়ার, ২৯৫ পিস ইয়াবা, ৬১ বোতল স্কাফ, ৪৫ বোতল ফায়ারডিল এবং ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগে ১৩ জন, মাদক সেবনের অভিযোগে ৮৮ জন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৯ জন এবং বিভিন্ন নিয়মিত মামলার ১৪ জন আসামি রয়েছেন। এ ছাড়া চুরির অভিযোগে একজন, অন্যান্য অভিযোগে চারজন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের একজন সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
থানাভিত্তিক অভিযানের বিবরণ
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকায় পুলিশের অভিযানে মোট নয়জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে ছয়জন, পরোয়ানাভুক্ত একজন এবং নিয়মিত মামলার দুই আসামি রয়েছেন।
ফতুল্লা মডেল থানা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৬৩ ক্যান বিয়ার জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগে দুজন, মাদক সেবনের অভিযোগে ৫২ জন, পরোয়ানাভুক্ত ১০ জন, অন্যান্য অভিযোগে একজন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন সদস্য রয়েছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযানে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৬১ বোতল স্কাফ, ৪৫ বোতল ফায়ারডিল ও ২৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগে সাতজন, মাদক সেবনের অভিযোগে আটজন, পরোয়ানাভুক্ত দুজন এবং নিয়মিত মামলার আটজন আসামি রয়েছেন।
বন্দর থানা এলাকায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগে একজন, মাদক সেবনের অভিযোগে একজন, পরোয়ানাভুক্ত দুজন এবং অন্যান্য অভিযোগে তিনজন রয়েছেন। এ সময় ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
সোনারগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে ১৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে ১১ জন, চুরির অভিযোগে একজন এবং পরোয়ানাভুক্ত একজন রয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানা এলাকায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ২৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক বিক্রির অভিযোগে তিনজন, মাদক সেবনের অভিযোগে সাতজন এবং নিয়মিত মামলার তিনজন আসামি রয়েছেন।
অন্যদিকে, আড়াইহাজার থানা এলাকায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে তিনজন, পরোয়ানাভুক্ত তিনজন এবং নিয়মিত মামলার একজন আসামি রয়েছেন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।