1. admin@mhnews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গলাচিপায় যৌথ অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, আগুনে ধ্বংস চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-মেয়েসহ ৩ জনের মৃত্যু রুহিয়ায় অবৈধ ৩০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ প্রকাশ্য আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস সমাধিনগর ব্র্যাক শাখা অফিসে সদস্যের মাঝে গার্ডেন টিলার বিতরণ ভালুকায় বিরোধপূর্ণ জমির দখল বুঝিয়ে দিলো আদালত নীলফামারীতে সর্বোচ্চ ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বাগেরহাটের রামপালে প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সিংড়ায় সেলাই মেশিন,টিউবওয়েল ও অনুদানের চেক বিতরণ করলেন এমপি আনু মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ৬ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন টেকনাফের সাংবাদিক আরাফাত সানি স্বামী বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে বাইরে যাওয়ার সুযোগে নারীকে ধর্ষণ।

প্রযুক্তির রথের চাকা এবং জ্বালানির রুক্ষ বাস্তবতার সংঘাত

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ১৭ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেক্স
​আধুনিক সভ্যতার হৃৎপিণ্ড হলো সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ। গুয়াংজু, উত্তর জেওলা এবং দক্ষিণ জেওলা অঞ্চলের মতো তুলনামূলক অনুন্নত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই চারটে বিশাল চিপ ফ্যাব্রিকেশন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলে, তা ওই সমগ্র অঞ্চলের বর্তমান বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গ্রাস করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির প্রধান বিশ্লেষক নীল ওন। তাঁর ভাষায়, “একটি বিশাল পরিমাণ নতুন বিদ্যুৎ চাহিদা এমন এক অঞ্চলে প্রবেশ করছে, যা পূর্বে ছিল নীরব ও শান্ত; আর এটিই আজকের এই সংকটের মূল মর্মবাণী।”
​শুধু বিদ্যুৎ নয়, বিশাল এই উৎপাদন প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন পানির প্রবাহ। কিন্তু বিদ্যমান বাঁধ উঁচু করার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো রূপ পূর্বরামর্শ না করার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
​আস্থার সংকট এবং পরিবেশগত উদ্বেগের মেঘ
​উন্নয়নের সোনালী রোদ্দুরের নিচে জমে উঠেছে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘশ্বাস। দশকের পর দশক ধরে চলা জ্বালানি অবকাঠামোর ত্রুটি এবং নিজেদের মতামতকে উপেক্ষার সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। নতুন করে পারমাণবিক চুল্লি, ক্ষুদ্র মডুলার চুল্লি (SMR) কিংবা উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের যে ঘোষণা রাষ্ট্র দিচ্ছে, তা যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের কাছে। সিউলের দূরবর্তী নীতিনির্ধারকদের এই একপেশে সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনপদের জীবনপ্রবাহে এক ধরনের অনভিপ্রেত অস্থিরতা তৈরি করেছে।
​প্রশাসনের আশার বাণী বনাম স্থবিরতার আশঙ্কা
​রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক ও জ্বালানি মন্ত্রনালয় দাবি করছে যে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইতিমধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। ফলে নতুন এই চিপ হাবের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান স্থানীয় উৎস থেকেই অনেকাংশে মেটানো সম্ভব, যা দূরপাল্লার সঞ্চালন লাইনের ওপর নির্ভরতা কমাবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল স্থাপন এবং জনমতকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে প্রশাসন।
​তবে ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতার এই পিচ্ছিল পথে কেবল আশ্বাসের বাণীই যথেষ্ট নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবকাঠামোগত এই গোলকধাঁধা ভেদ করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো না গেলে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই সিলিকন স্বপ্ন মাঝপথেই হোঁচট খেতে পারে। চিপ শিল্পের এই আকাশচুম্বী উচ্চাভিলাষ শেষ পর্যন্ত এক অভাবনীয় বিপ্লব আনবে, নাকি শক্তির বুনিয়াদে তৈরি হওয়া এক ভঙ্গুর মরীচিকা হয়ে রবে—তার উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী দিনের কূটনীতি ও জনসচেতনতার সুক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24