1. admin@mhnews24.com : admin :
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সিদ্ধিরগঞ্জে চট্টগ্রামের আলোচিত মামলার এক আসামি গ্রেপ্তার শঙ্কা ছিল গোপালগঞ্জ নিয়ে, নির্বিঘ্নে পার হলো ১১ দলীয় ঐক্যের ১৫০০ গাড়ির লংমার্চ রাজিবপুরে এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, দায় কার—শিক্ষার্থী, অভিভাবক নাকি কলেজ কর্তৃপক্ষ? কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১,৩১৩ জন, ফলাফলে এগিয়ে মেয়েরা নেত্রকোনায় অতিরিক্ত শামুক আহরণে সংকটে ডিঙ্গাপোতা হাওরের মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ উখিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১ কুমিল্লায় সিএনজি অটোরিকশার ইঞ্জিনে মিললো ১৫ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার-২ দুপচাঁচিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, আহত স্বামী শুভ জন্মদিন নেত্রকোনায় জমি দখলের চেষ্টা, ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

রাজিবপুরে এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, দায় কার—শিক্ষার্থী, অভিভাবক নাকি কলেজ কর্তৃপক্ষ?

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৯ বার পঠিত

মো: শাহরিয়ার (রাজিবপুর) কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
৩১ অক্টোবর ২০২৬

সারা দেশে পাসের হার ৫২.১২%, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫.৯৮%; রাজিবপুর মহিলা কলেজে পাস মাত্র ১৬%, সরকারি কলেজে ২৩.৩০ শতাংশ, দুই প্রতিষ্ঠানেই জিপিএ-৫ শূন্য—হতাশ অভিভাবক, প্রশ্নের মুখে শিক্ষার মান!

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। উপজেলার দুটি কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজিবপুর মহিলা কলেজে পাসের হার মাত্র ১৬ শতাংশ এবং রাজিবপুর সরকারি কলেজে ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। এমন ফলাফলে হতাশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, এই ফল বিপর্যয়ের দায় কার?

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, রাজিবপুর মহিলা কলেজ থেকে এবার ২৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ২১ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে রাজিবপুর সরকারি কলেজ থেকে ৩০৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ২৩৭ জন। কলেজটির পাসের হার ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। দুই কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পায়নি।

এদিকে সারা দেশে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন। অপরদিকে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৫৩ জন। জাতীয় ও বোর্ড পর্যায়ের ফলাফলের তুলনায় রাজিবপুরের কলেজ দুটির ফলাফল আরও হতাশাজনক।

মোবাইল ফোনে আসক্তি, পড়াশোনায় অনীহা
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি অনীহা, নিয়মিত অধ্যয়ন না করা এবং অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—দুই পক্ষকেই আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কলেজে অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন
কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে না। মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় এবং পাঠদানে অনাগ্রহের কারণেও পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে তারা। তবে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতির পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ কতটা কার্যকর—সেসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

দায় এড়ানোর সুযোগ নেই কারও
শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা, পাঠদানের মান বাড়ানো, দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা নজরদারিতে রাখা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনার প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।

রাজিবপুরের মতো একটি উপজেলার দুটি কলেজে এমন ফলাফল স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। অন্যথায় আগামী দিনেও এমন ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে যাবে।

এখন অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রশ্ন—এই ফল বিপর্যয়ের দায় কি শুধু শিক্ষার্থীদের, নাকি অভিভাবক ও কলেজ কর্তৃপক্ষেরও দায় রয়েছে?

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24