
ডেক্স রিপোর্ট
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি আজ ১৯ জুলাই (রবিবার) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত “রক্তাক্ষরে জুলাই” শীর্ষক প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি এ আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানান। তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডি, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর, রাজনৈতিক সহিংসতা, গুম, বিচারিক প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি আহত ও বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে স্বাধীন বিচার বিভাগ, শক্তিশালী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর ব্যবস্থা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মুক্তচিন্তা, সহাবস্থান, জ্ঞানচর্চা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) পরিদর্শন করেন এবং ডাকসু নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় ডাকসুর নেতৃবৃন্দ তাঁকে একটি শিল্পকর্ম ও পরিবেশবান্ধব গাছ উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তিনি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন গ্রাফিতি ও শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে ছাত্র প্রতিনিধিরা বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের অধিকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের সমস্যা, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, নারীদের অনলাইন নিপীড়নসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থী-সংশ্লিষ্ট দাবি তাঁর কাছে তুলে ধরেন। ডা. শফিকুর রহমান মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং এসব বিষয় সংসদে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি উন্নত জাতি গঠনের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষা। তাই সরকারের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অগ্রাধিকারই হওয়া উচিত শিক্ষা। নৈতিকতা ও একাডেমিক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত না হলে একটি আদর্শ জাতি গঠন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, শুধু একটি হল নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো সংসদে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল দেশের যুবসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম। এ আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি ছিল সবার সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও নেতৃত্বের ফসল। তিনি ব্যক্তিগত কৃতিত্বের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য ও সম্মিলিত অবদানের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা সমাজের বোঝা নয়; বরং দেশের মূল্যবান সম্পদ। তাদের মর্যাদা, অধিকার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাশাপাশি তিনি দেশের তরুণ-তরুণীদের দক্ষ, নৈতিক ও দেশগড়ার উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষা, ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে ইনসাফ, মানবিকতা, গণতন্ত্র, মর্যাদা ও জনগণের অধিকার সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের মানুষ বিশ্বদরবারে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের সালাত আদায় করেন এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। পরে উপস্থিত সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও চকলেট বিতরণের মাধ্যমে তিনি তাঁর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত সফর সমাপ্ত করেন।
সফরকালে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোঃ মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এড. ড. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি জনাব মুহাম্মদ কামাল হোসাইন এমপি এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি সাদিক কাইয়ুম, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ ডাকসু নেতৃবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্র ও মহানগরীর বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মী।