
পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি
আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় জোটের খুলনা–যশোর–কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে যশোরের কেশবপুরে প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবিতে ঘোষিত এ কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর-২৬) সকালে কেশবপুর পৌর জামায়াতের কার্যালয়ে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী-এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় স্পোর্টস সম্পাদক সাঈদুর রহমান সাঈদ-এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার রফিকুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক তবিবুর রহমান, উপজেলা পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওজিয়ার রহমান এবং পৌর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জাকির হোসেন। এ ছাড়া উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবির, শ্রমিক কল্যাণ, যুব বিভাগ ও ওলামা বিভাগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেলাল হুসাইন বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এবং দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা ও ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোক্তার আলী বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে কেশবপুরের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সব পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্মসূচি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজকদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা, শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকট নিরসন, কৃষকদের জন্য সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও ভূমি দখল বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টিও রয়েছে।
ছবিঃ
১৬/১০/২৬