
তারিখ: ০৪ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ।
*কক্সবাজারের আলোচিত কিশোর সুকান্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।*
মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ, কক্সবাজার।
‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব সদা তৎপর ও আপসহীন। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের মনে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ভয় জাগিয়ে তুলতে র্যাবের এই অগ্রযাত্রা বরাবরের মতোই প্রশংসিত।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ আনুমানিক ১৭:১৫ ঘটিকায় র্যাব-১৫, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদরের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর থানাধীন লাবনী বীচ এলাকায় একটি সফল অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে কক্সবাজারের সমিতিপাড়ার আলোচিত কিশোর সুকান্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত অন্যতম পলাতক আসামি হাসেম প্রকাশ মইগ্যা হাসেম (৪৭) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গত ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে কক্সবাজারের সমিতিপাড়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত সংঘর্ষে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন এবং সুকান্ত (১৫) নামের এক সেলুন কর্মী কিশোর প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং সন্ধ্যায় কিশোর সুকান্ত মৃত্যুবরণ করে। উক্ত নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকেই বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে আসামিকে গ্রেফতারে র্যাব-১৫ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গ্রেফতারকৃত আসামি কক্সবাজার জেলার সদর মডেল থানাধীন সমিতিপাড়া (বাগান পাড়া), ১নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভার বাসিন্দা মৃত নুর আহমদের ছেলে হাসেম প্রকাশ মইগ্যা হাসেম (৪৭)।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও মাদক চোরাচালানের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা ও একটি মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ দমনে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে র্যাব-১৫ এর এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
—-স্বাক্ষরিত—-
আ. ম. ফারুক
সহকারী পুলিশ সুপার
সহকারী পরিচালক (মিডিয়া)
পক্ষে অধিনায়ক