
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি ফজলুল হক আমিনীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৬, সাতক্ষীরা ক্যাম্প। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ফজলুল হক আমিনী দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের ক্বারী রুহুল আমিনের ছেলে। এসআরবি-৬, সাতক্ষীরা ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত মামলার আসামি, বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি এবং চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর সোমবার শামীম ও তাঁর স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে লোকজন শামীমের বাড়িতে হামলা চালায়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শামীম কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরদিন ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় বাজারের এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নিতে যান তিনি। এ সময় একদল লোক চেম্বার থেকে তাঁকে বের করে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শামীমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে একটি মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। সেখান থেকে শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে আবারও মারধর করা হয়। পরে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ফজলুল হক আমিনীকে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এসআরবি-৬, সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ যিয়াদ জানান, সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে এসআরবি-৬-এর চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।