
অভিযানের পরদিনই একই জায়গায় ফের বসছে নিষিদ্ধ বোরিং ড্রেজার, প্রশ্ন – এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা নাকি অদৃশ্য কোনো শক্তির আশ্রয়?
স্টাফ রিপোর্টার:- আল ইমরান
সরকার নিষিদ্ধ বোরিং ড্রেজার মেশিন দিয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই দিন-রাত চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। ফসলি জমি, বিল, ঘের এবং সরকারি ব্লকের ভেতর থেকে অবাধে বালু তুলে কোটি টাকার বাণিজ্য চললেও রহস্যজনকভাবে নীরব উপজেলা প্রশাসন। অভিযান হলেও পরদিনই একই স্থানে ফের মেশিন বসানোর অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র:-
উড়াকান্দি, পারুলিয়া ও রাজপাটে সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব; উপজেলার উড়াকান্দি ইউনিয়নের খাগড়াবাড়িয়া ব্যাটারি কারখানার পশ্চিমে বিএডিসি পাম্প ও ধানের ব্লকের মাঝের কৃষি জমি থেকে এবং পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় পারুলিয়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ খাগড়াবাড়িয়া গ্রামের হেলাল মোল্লার বিরুদ্ধে। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তেতুলিয়া বিল ও গোয়ালগ্রাম মাদ্রাসা টু কুমরিয়া সড়কের পাশের ঘের থেকে বালু তোলার অভিযোগ রয়েছে।
রাজপাট ইউনিয়নের ধোপাপাড়া দক্ষিণপাড়া (মতিন প্রফেসরের বাড়ির পেছনে), ডুমরাকান্দি-সাতাসিয়ার বিল, বরইহাট, তেতুলিয়া ও সিল্টের বিল থেকে শফিকুল, সোহেল, শাহানুর, কালা শাহিনুর, সুজন, রাজিব, টুলু, সিরাজদের ড্রেজার চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। নাট গ্রামে চন্দ্রদিপ বিল থেকে বালু ফেলে ভরাট করছেন মনিরুল ইসলাম। এছাড়া বেথুড়ী বিলে সাফায়েত এবং সিতারামপুর পশ্চিম ডাঙ্গার বিলে ওমর মোল্লার ড্রেজার চলছে।
অন্যান্য ইউনিয়নেও একই চিত্র:- হাতিয়াড়া: হাতিয়াড়া বটবাড়ি বড়রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় জুয়েল, কামাল, ভুলবাইড়ে বিলে জামাল মেম্বারের ছেলে আসলাম, কাঞ্চ এবং পাথরগ্রাম বিলে অনুপ রায় ও বরমপাল্টা গ্রামের সুজিতের ৩টি ড্রেজার।
সিংগা: দেবাসুর বিলে লালু, গৌতম, সজল এবং পূর্বপাড়ায় শরজিতের ড্রেজার।
নিজামকান্দি: নিশ্চিন্তপুর গ্রামে প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার অভিযোগ সিরাজ ও সাহিদুলের বিরুদ্ধে।
মাহমুদপুর: জিকেবাড়ি বিলে হারাধনের ড্রেজার।
পুইশুর: সিতারামপুর উচ্চ মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্কুলের পূর্ব পাশের বিলে নিক্সন ও টুটুল সিকদার।
শুক্তগ্রাম: প্রাইমারি স্কুলের পূর্ব পাশে আলমের ড্রেজার।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বোরিং ড্রেজারের কারণে আশপাশের ১০-১৫ বিঘা জমি ধসে পড়ছে, ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, গভীর গর্তে পরিণত হয়ে জমি চাষের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। পানির স্তর নেমে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, “আমরা বাধা দিলে হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসন আসে, বন্ধ করে জান তবে কোনো জেল-জরিমানা করেন না, তারা যাওয়ার পরদিনই আবার মেশিন চলে। মনে হয় এদের পেছনে কোনো অলৌকিক শক্তি আছে।”
এ বিষয়ে কাশিয়ানী সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাপিয়া সুলতানা লিজা বক্তব্যে জানান, প্রতিনিয়ত উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে, অভিযান পরিচালনার সময় কোনো ড্রেজারের লোক পাওয়া যায়না। ড্রেজার মেশিনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নিকটস্থ থানা পুলিশ’কেও অবগত করার কথা বলেন।
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া বলেন, বোরিং ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারি আদেশ অনুযায়ী অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু লোক দেখানো অভিযান নয়, ড্রেজার মেশিন জব্দ ও নিয়মিত মনিটরিং এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।