
নিজস্ব প্রতিবেদক: মিসেস চামেলি আক্তার প্রিয়া
নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-র মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিল অমল বোস ও নিপুর জনপ্রিয় ‘নানা-নাতি’ জুটি। পর্দার এই সম্পর্ক শুধু দর্শকদের হাসি-আনন্দই দেয়নি, সময়ের সঙ্গে তা পরিণত হয়েছিল গভীর ভালোবাসা ও মায়ার বন্ধনে।
অমল বোস ছিলেন নিপুর সহশিল্পী, আবার একই সঙ্গে অনেকটা অভিভাবকের মতো। অভিনয়ের সংলাপ কীভাবে বলতে হয়, ক্যামেরার সামনে কীভাবে দাঁড়াতে হয়—অভিনয়ের নানা খুঁটিনাটি বিষয় তাঁর কাছ থেকেই শিখেছিলেন নিপু। ফলে পর্দার নানা-নাতির সম্পর্ক একসময় বাস্তব জীবনেও হয়ে উঠেছিল স্নেহ ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক।
তবে সময়ের পরিক্রমায় সেই প্রিয় জুটি আজ আর একসঙ্গে নেই। অমল বোস পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন অনেক আগেই। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কাটানো স্মৃতি এখনো নিপুর হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।
অমল বোসের মৃত্যুর পর নিপুর মনে রয়ে গেছে দুটি গভীর আক্ষেপ। একটি হলো—নানার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে মাছ খাওয়াতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় কষ্ট, প্রিয় নানা যখন শেষবারের মতো পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, তখন বিদেশে অবস্থান করায় তাঁকে শেষবারের মতো দেখতেও পারেননি নিপু।
প্রিয় মানুষকে শেষবার দেখতে না পারার সেই বেদনা আজও তাঁকে কষ্ট দেয়। সময় অনেকটা পেরিয়ে গেলেও নানার স্মৃতি তাঁর কাছে যেন এখনো জীবন্ত।
দর্শকদের কাছেও অমল বোস ও নিপুর ‘নানা-নাতি’ জুটি এখনো বিশেষভাবে স্মরণীয়। নিপুকে দেখলে অনেক দর্শক আজও ভালোবাসা নিয়ে বলে ওঠেন—“ওই যে নানার নাতি!”
দর্শকদের এই ভালোবাসার মধ্য দিয়েই যেন ফিরে আসে অমল বোসের স্মৃতি। পর্দার সেই প্রাণবন্ত নানা আজ নেই, কিন্তু তাঁর অভিনয়, সংলাপ এবং নিপুর সঙ্গে গড়ে ওঠা সেই অনন্য সম্পর্ক এখনো বাংলা টেলিভিশন ও বিনোদনপ্রেমীদের মনে জায়গা করে আছে।
পর্দার ‘নানা-নাতি’ আজ আর একসঙ্গে নেই। কিন্তু তাঁদের ভালোবাসা, অভিনয় ও স্মৃতি সময়ের সঙ্গে মুছে যায়নি—বরং দর্শকের হৃদয়ে আরও গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে।
প্রয়াত অভিনেতা অমল বোসের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।