
মোঃ শিহাব উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভুট্টা ব্যবসার কথা বলে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মো. মোস্তফা আসাদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পিবিআইয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মোস্তফা আসাদ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ‘আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
পিবিআই জানায়, ফতুল্লা থানায় করা মামলার বাদীর সঙ্গে মোস্তফা আসাদ ও তাঁর বাবা মো. আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে তাঁরা ভুট্টা সংগ্রহ, গুদামজাত ও পরে বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের প্রস্তাব দেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৪ মে ‘মৌসুমি ভুট্টা ক্রয় ও সংরক্ষণের গুদাম ভাড়ার চুক্তিপত্র’ নামে একটি চুক্তি হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় বাদী আসামিদের ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব, আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেডের অগ্রণী ব্যাংক হিসাবে মোট ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৩০ টাকা জমা দেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অর্থের মধ্যে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা বাদীর পাওনা ছিল। তবে টাকা ফেরত না দিয়ে সময়ক্ষেপণ এবং পরে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলার এজাহারে। অভিযোগে মোস্তফা আসাদ ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অপু দের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া এলাকায় আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেডের কার্যালয়ের সামনে থেকে মোস্তফা আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংস্থাটির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পিবিআই আরও জানিয়েছে, মোস্তফা আসাদ ও তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নেওয়া অর্থ পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
পিবিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মামলার অপর আসামি আব্দুল লতিফ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় একই ধরনের অপরাধসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।