
হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল: মানুষ বেঁচে থাকেন তাঁর কর্মে, আদর্শে ও মানুষের জন্য রেখে যাওয়া ভালো কাজের মধ্য দিয়ে। শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যিনি জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন, সেই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মরহুম আলহাজ্ব খোরশেদ আলম এবং তাঁর সহধর্মিণী মরহুমা ফয়েজ আলমের স্মরণে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বার্ষিক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জুমার নামাজের পর যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সোনাতনকাটি জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন আলহাজ্ব খোরশেদ আলম হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পরিবারের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ সময় মরহুম দম্পতির বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মরহুম আলহাজ্ব খোরশেদ আলম ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর রাতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। এলাকার মানুষের কল্যাণে তাঁর নিরলস ভূমিকা তাঁকে সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র করে তুলেছিল।
তিনি যশোর এন্টার ডিস্ট্রিক্ট বাস মালিক সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাগআঁচড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, বামুনিয়া সোনাতনকীটি কবরস্থানের সভাপতি এবং আলহাজ্ব খোরশেদ আলম হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষার প্রসারে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল। জীবদ্দশায় এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে লেখাপড়ায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান স্থানীয় মানুষের কাছে আজও স্মরণীয়।
দোয়া মাহফিলে মরহুম দম্পতির ছোট ছেলে এবিএম মাসুদুর আলম, পরিচালনা পরিষদের সদস্য, আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, শার্শা থানা বিএনপি, তাঁর পিতা-মাতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, আমার বাবা-মা জীবদ্দশায় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁদের অবদান আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের। মহান আল্লাহ যেন আমার পিতা-মাতার জীবনের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া চাইছি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিবছরের মতো এবারও মরহুম আলহাজ্ব খোরশেদ আলম ও মরহুমা ফয়েজ আলমের স্মরণে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া কামনা করেন পরিবারের সদস্যরা।