1. admin@mhnews24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স জব্দ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে তানোর: ইউএনও নাঈমা খানের সাফল্য হাউসকিপার থেকে এইচটিসি লোকাল ৬-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট: মেরি রিচার্ডের অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রা নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে ডলি পার্টনের স্মরণে গোলাপি আলোকসজ্জা সেকাকাস পুলিশের লেফটেন্যান্ট টমাস ‘টিজে’ মালাঙ্কার মৃত্যু কানাইঘাটে কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর পরিবারকে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী তাহিরপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ অভিযুক্ত যুবক আটক লক্ষীপুরে মসজিদের অজুখানায় সাংবাদিককে হামলা অভিযোগ ও হত্যার হুমকি লামায় ৫০ শয্যার হাসপাতালে দেড় লাখ মানুষের চাপ দেশের জন্য কাজ—জামায়াতে ইসলামীর পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ

কবি, কথা-সাহিত্যিক, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প : “রূপ সাগরের ঢেউ”

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৩ বার পঠিত

রূপ সাগরের ঢেউ
-মাধুরী ব্যানার্জী

শহরের ব্যস্ততা থেকে বহু দূরে ছোট্ট এক সমুদ্রতীরের গ্রাম—নীলপুর। সেখানে প্রতিদিন ভোরে সমুদ্রের ঢেউ এসে বালির বুকে লিখে যেত অজস্র গল্প, আবার ফিরে যাওয়ার সময় মুছে দিত সবকিছু।
সেই গ্রামেই থাকত শতরূপা। সমুদ্রের মতোই তার মন—গভীর, অথচ শান্ত। ছোটবেলা থেকেই সে ঢেউয়ের সঙ্গে কথা বলত। তার বিশ্বাস ছিল, সমুদ্র মানুষের মনের কথা শুনতে পারে।
একদিন বিকেলে সমুদ্রতীরে বসে শতরূপা দেখল, দূরে এক তরুণ বালিতে ছবি আঁকছে। নাম তার অয়ন। শহর থেকে এসেছে সমুদ্রের ছবি আঁকতে। কিন্তু অয়নের আঁকা ছবিতে সমুদ্রের সৌন্দর্যের চেয়ে মানুষের অপেক্ষাই যেন বেশি ফুটে উঠছিল।
শতরূপা জিজ্ঞেস করল,
—“আপনি সমুদ্র আঁকছেন, অথচ ঢেউয়ের মধ্যে এত বিষণ্ণতা কেন?”
অয়ন মৃদু হেসে বলল,
—“কারণ ঢেউ যতই তীরে আসুক, তাকে আবার ফিরে যেতে হয়।”
শতরূপা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
—“ফিরে যাওয়া মানেই কি হারিয়ে যাওয়া?”
অয়ন তার দিকে তাকাল। প্রশ্নটির উত্তর সে দিতে পারল না।
তারপর থেকে প্রতিদিন বিকেলে তাদের দেখা হতে লাগল। কখনও কথা, কখনও নীরবতা—সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে কাছে আসতে লাগল।
কিন্তু একদিন অয়ন জানাল, তাকে শহরে ফিরে যেতে হবে। তার জীবনের দায়িত্ব, কাজ—সবকিছু অপেক্ষা করছে।
শতরূপার বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল। তবু সে বলল,
—“ঢেউ তো ফিরে যায়, আবার আসেও।”
অয়ন বলল,
—“যদি ফিরে আসতে পারি?”
শতরূপা সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল,
—“তাহলে এই তীরে আমি থাকব।”
অয়ন চলে গেল।
দিন গেল, মাস গেল। শতরূপা প্রতিদিন সন্ধ্যায় সেই একই জায়গায় এসে বসত। গ্রামের মানুষ তাকে বলত, “অপেক্ষা করে কী লাভ?”
শতরূপা শুধু হাসত।
এক বর্ষার সন্ধ্যায় আকাশ কালো হয়ে এসেছিল। সমুদ্র উত্তাল। হঠাৎ শতরূপা দেখল, ঢেউয়ের ফেনার ওপারে একজন দাঁড়িয়ে আছে।
অয়ন।
তার হাতে সেই পুরোনো ছবিটি—যেখানে সমুদ্রের বুকে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে, আর তার দিকে এগিয়ে আসছে এক বিশাল ঢেউ।
অয়ন কাছে এসে বলল,
—“ছবিটা শেষ করতে পারিনি। কারণ বুঝেছিলাম, ছবির মেয়েটিকে ছাড়া এই সমুদ্র অসম্পূর্ণ।”
শতরূপার চোখে জল এসে গেল।
সেদিন সমুদ্রের ঢেউ আরও জোরে তীরে আছড়ে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল, এতদিনের অপেক্ষার সব শব্দ তারা একসঙ্গে উচ্চারণ করছে।
শতরূপা বুঝল—রূপ শুধু চোখে দেখা সৌন্দর্যের নাম নয়। সত্যিকারের রূপ লুকিয়ে থাকে অপেক্ষায়, বিশ্বাসে আর ফিরে আসার প্রতিশ্রুতিতে।
সমুদ্রের ঢেউ যেমন বারবার তীরে ফিরে আসে, তেমনি সত্যিকারের ভালোবাসাও কখনও হারিয়ে যায় না।
শুধু সময়ের স্রোতে একটু দূরে সরে থাকে—
তারপর একদিন ফিরে আসে,
রূপ সাগরের ঢেউ হয়ে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24