
একজন শিক্ষক শুধু একজন চাকরিজীবী নন—তিনি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। অথচ যদি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার বদলে কোনো শিক্ষক মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ। এই বয়সেই তাদের হাতে বই তুলে দেওয়ার কথা, অক্ষর-জ্ঞান থেকে শুরু করে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ শেখানোর কথা। একজন শিক্ষক যদি ক্লাসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করেন, তাহলে ছোট্ট শিশুরা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারাবে—এটাই স্বাভাবিক।
তবে কোনো নির্দিষ্ট ভিডিও বা অভিযোগের ভিত্তিতে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে একই চোখে দেখা উচিত নয়। অসংখ্য শিক্ষক আছেন, যারা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে হয়—যদি কোথাও সত্যিই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা।
শিক্ষককে অপমান করা নয়, বরং শিক্ষকের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমাদের দাবি। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক থাকবেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে, হাতে থাকবে পাঠ্যবই ও শিক্ষার উপকরণ—ব্যক্তিগত বিনোদনের মোবাইল নয়।
আমরা চাই, প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত তদারকি থাকুক। শিক্ষকরা যথাযথভাবে ক্লাস নিচ্ছেন কি না, শিশুরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা পাচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হোক।
কারণ আজকের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুটিই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা, অনিয়ম কিংবা দায়িত্বহীনতা মেনে নেওয়া উচিত নয়।
শিক্ষক সম্মানের পাত্র, কিন্তু সেই সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতাও থাকতে হবে।
শিক্ষার পরিবেশ ফিরুক, শ্রেণিকক্ষে ফিরুক মনোযোগ—সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এটাই আমাদের প্রত্যাশা।