1. admin@mhnews24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স জব্দ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে তানোর: ইউএনও নাঈমা খানের সাফল্য হাউসকিপার থেকে এইচটিসি লোকাল ৬-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট: মেরি রিচার্ডের অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রা নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে ডলি পার্টনের স্মরণে গোলাপি আলোকসজ্জা সেকাকাস পুলিশের লেফটেন্যান্ট টমাস ‘টিজে’ মালাঙ্কার মৃত্যু কানাইঘাটে কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর পরিবারকে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী তাহিরপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ অভিযুক্ত যুবক আটক লক্ষীপুরে মসজিদের অজুখানায় সাংবাদিককে হামলা অভিযোগ ও হত্যার হুমকি লামায় ৫০ শয্যার হাসপাতালে দেড় লাখ মানুষের চাপ দেশের জন্য কাজ—জামায়াতে ইসলামীর পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ

বন্যার ভয় পেরিয়ে রোপা আমনে রাজিবপুরের কৃষকের নতুন স্বপ্ন

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৯ বার পঠিত

মো: শাহরিয়ার
রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম )প্রতিনিধি:

মাটির বুক চিরে মাথা তুলছে সবুজ রোপা আমনের চারা। কাদামাটিতে পা ডুবিয়ে একের পর এক চারা রোপণ করছেন কৃষক। শরীরজুড়ে ক্লান্তি, কপালে ঘাম—তবুও থেমে নেই তাদের হাত। কারণ এই ছোট ছোট সবুজ চারার মধ্যেই তারা দেখতে পাচ্ছেন পরিবারের ভবিষ্যৎ, সন্তানের স্বপ্ন আর ঘরে সোনালি ধান ওঠার প্রত্যাশা।

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে এখন রোপা আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় মাঠে তাদের ছুটে চলা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা তুলছেন, আবার কেউ কাদামাটির জমিতে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করছেন আমনের চারা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কৃষকের এই কর্মব্যস্ততা যেন জানান দিচ্ছে—নতুন মৌসুমে আবারও নতুন স্বপ্নে বুক বাঁধছেন তারা।

মাটির ধরন ও নদীভাঙন পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে
চর রাজিবপুরে প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়। কিন্তু এই কৃষকের স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক বন্যা ও নদীভাঙন। প্রতিবছর চারা রোপণের পর বন্যার পানি এসে জমি তলিয়ে দিলে নষ্ট হয়ে যায় কচি চারা। মুহূর্তেই পানির নিচে হারিয়ে যায় কৃষকের দিনের পর দিন শ্রম, খরচ আর স্বপ্ন।

তারপরও কৃষক থেমে থাকেন না। একবার ক্ষতি হলে আবার চারা জোগাড় করেন, আবার জমিতে নামেন। কারণ কৃষকের কাছে ফসল মানেই শুধু ধান নয়—ফসল মানেই পরিবারের মুখে খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, সংসারের প্রয়োজন মেটানো এবং সারা বছরের বেঁচে থাকার আশ্রয়।

এক কৃষকের ভাষায়, “চারা লাগাইয়া যখন দেখি পানি আইয়া সব ডুবাইয়া দেয়, তখন খুব কষ্ট লাগে। কিন্তু চাষ না করলে সংসার চলবে কীভাবে? তাই আবার লাগাই। এবার আল্লাহর ওপর ভরসা করে চাষ করছি।”

চর রাজিবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ তৌফিক আল জুবায়ের-এর নেতৃত্বে কৃষি বিভাগ কৃষকদের আমন চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

কৃষকের চোখে আজ যে সবুজ, সেটিই একদিন সোনালি হয়ে উঠবে—এই আশাতেই কাদামাটিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন তারা। বন্যা আসবে কি না, নদী ভাঙবে কি না—এসব অনিশ্চয়তা নিয়েই প্রতিটি চারা মাটিতে পুঁতে দিচ্ছেন কৃষক।

কারণ কৃষকের স্বপ্ন কখনো সহজে ডুবে যায় না। বন্যার পানি যদি একবার সেই স্বপ্ন ভাসিয়েও নেয়, কৃষক আবারও মাটির বুক চিরে নতুন স্বপ্নের চারা রোপণ করেন। চর রাজিবপুরের মাঠে আজ সেই স্বপ্নই সবুজ হয়ে উঠছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24