
মোঃ আব্দুল আউয়াল খান
স্টাফ রিপোর্টার, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) তাঁদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, কেন্দুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি দল মাদক উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান চালাচ্ছিল। বুধবার ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে সাহিতপুর বাজারে অবস্থানকালে তাঁরা গোপন সংবাদ পান, গন্ডা বাজারে মোস্তফা নামের এক ব্যক্তির দোকানঘরে টাকার বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলা হচ্ছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানিয়ে তাঁর নির্দেশে পুলিশ ভোর সোয়া ৪টার পর সেখানে পৌঁছায়। এজাহারে বলা হয়েছে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়াড়িরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করা হয়।আটক ব্যক্তিরা হলেন গন্ডা চর গ্রামের হাফিজুর রহমান ওরফে খোকন (৬০) ও খুররম মিয়া (৫০), মনকান্দা গ্রামের চান্দু মিয়া (৪৫) ও আলী ওসমান (৪২), বীরমহুরী গ্রামের সোহাগ (৪৫) এবং মরিচপুর গ্রামের মজিবুর রহমান (৬০)। সবার বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নে।
পুলিশের জব্দ তালিকা অনুযায়ী, দোকানঘরের ভেতরে টেবিলের ওপর থেকে ১০৪টি তাস ও ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এজাহারে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে টাকার বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
কেন্দুয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, জুয়া খেলা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠাই। জুয়ার আসর থেকে সরঞ্জামসহ তাঁদের আটক করা হয়। জুয়া আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আজ আদালতে পাঠানো হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সোহাগ উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং খোকন ও খুররম ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য। খুররম ইউনিয়ন যুবদলের এক সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়কের বড় ভাই। আলী ওসমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। খোকন ও ওসমান দুজনই বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।
ইউপি সদস্যদের আটকের বিষয়ে গন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম কল্যাণ বলেন, “মাদক ও জুয়া নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। তবে আমার জানামতে, আমার ইউপি সদস্যদের এসব অনৈতিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা নয়। তারপরও যেহেতু তাঁরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন, এখন আইন অনুযায়ী যা হওয়ার, তা-ই হবে।”
আটক বিএনপি সদস্যদের বিষয়ে জানতে গন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রনিকে ফোন করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।