1. admin@mhnews24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লায় প্রাইভেটকার থেকে ২৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ যশোর জেলা পুলিশের সাত কর্মকর্তা বদলি যশোরে ৯৮ সার ডিলার ৬৫ বিএনপি, অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা বাদ কালীগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধারসহ -২ ডাকাত গ্রেফতার কেন্দুয়ায় জুয়া খেলতে গিয়ে ধরা পড়লেন দুই মেম্বারসহ ছয়জন ৫ বছরে এক কোটি দক্ষ কর্মী তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নওগাঁয় ডিবির অভিযানে ২৫টি জাল ১ হাজার টাকার নোটসহ গ্রেপ্তার ১ ধামইরহাটে বিজিবির অভিযানে ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক কারবারি আটক খুলনা সদর থানার চাঞ্চল্যকর তুষার হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, সম্মাননা পেলেন চার চালক

যশোরে ৯৮ সার ডিলার ৬৫ বিএনপি, অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা বাদ

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৯ বার পঠিত

মালিকুজ্জামান কাকা
যশোরে সার ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য হয়েছে। জেলার সর্ব স্তর থেকে এই অভিযোগ। অনুমোদন প্রাপ্ত ৯৮ ডিলারের ৬৫ জন বিএনপির নেতাকর্মী ও তাঁদের পরিবার সদস্য। তালিকায় নেতাদের স্ত্রী, ষাটোর্ধ্ব মা ও স্বজন। অভিযোগ আছে, কোথাও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে, কোথাও সার ব্যবসার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া প্রাপ্ত ডিলারশিপ। বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ সার ব্যবসায়ীরা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ অভিযোগের ক্ষোভ জেলা জুড়ে। ইতিমধ্যে ২১ ডিলারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
চৌগাছা উপজেলায় সারডিলার অনুমোদন প্রাপ্ত এক নম্বর তালিকায় মেসার্স চৌগাছা ট্রেডার্স। এর মালিক পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আউলিয়া। স্থানীয়রা জানান, বিএনপির রাজনীতির সাথে টাইলস ব্যবসায়ী সেলিম রেজা। সার-কীটনাশক ব্যবসায়ী নন তিনি। অথচ ডিলার অনুমোদন নীতিমালায় প্রথম শর্ত আবেদনকারীকে সার ব্যবসায়ী হতে হবে। সেলিম রেজা আউলিয়া জানান, ‘আবেদন করেছি, সরকার ডিলারশিপ দিয়েছে। সার ব্যবসা ছিল না তবে সার ব্যবসা পারবো। আগে টাইলস ব্যবসার অভিজ্ঞতা ছিল না, কিন্তু টাইলস ব্যবসায় সুনাম অর্জন করেছি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ও সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম। পাতিবিলা ইউনিয়নে ডিলার আবেদন করেন জহুরুলের স্ত্রী রহিমা আক্তার লিপি। এই ইউনিয়নে চার জন সার ব্যাবসায়ী আবেদন করলেও পেয়েছেন রহিমা আক্তার। তার সার বিক্রির অভিজ্ঞতা নেই। অভিজ্ঞ চার জন বাদ পড়েছেন।
হাকিমপুর ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ মেসার্স নিশান টেন্ডার্স এর। এর মালিক সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসানের ষাটোর্ধ্ব মা আমেনা বেগম। তার টিসিবি ডিলারশিপ রয়েছে। মাসুদুল বা তার মা আমেনা সার ব্যবসায়ী নয়।
যশোরে সার ডিলার মনোনীত ৯৮ এর মধ্যে ৬৫ জন বিএনপি নেতাকর্মী ও তাদের স্বজন।
জানা গেছে দলীয় প্রভাবে সার ডিলার মনোনীত এরা। সার ব্যবসায় যুক্ত আবেদনকারী অগ্রাধিকার ডিলার নিয়োগ নীতিমালায়। অথচ ডিলার হিসেবে মনোনীত বিএনপি নেতাকর্মী অনেকে সার ব্যবসায়ী নন। বাদ পড়া প্রায় ২০ জন আবেদনকারীর অভিযোগ দীর্ঘদিন সার ব্যবসায়ী তবু তারা ডিলার হতে পারেননি। অযোগ্য ও দলীয় নেতাকর্মী ডিলার হয়েছেন। এ নিয়ে বিএনপিতেও ক্ষোভ আছে। জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন, জেলা প্রশাসকের কাছে বিভিন্ন ইউনিয়নে অনুমোদন পাওয়া ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে ২১ ডিলারের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত আগষ্টে জেলায় ৯৩ ইউনিয়ন ও আট পৌরসভায় এক করে ১০১ জন সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদনের ভিত্তিতে উপজেলা-জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে ৯৮ জনকে ডিলার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে যশোর সদরে ১৬, মণিরামপুরে ১৭, শার্শায় ১২, কেশবপুরে ১২, অভয়নগরে নয়, চৌগাছায় ১১, বাঘারপাড়ায় নয় ও ঝিকরগাছায় ১২ জন।
তালিকায় ডিলারের মধ্যে ৬৫ জন বিএনপি ও তাদের পরিবার সদস্য। পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। তাদের কেউ বিএনপির পদে, কেউ ছাত্রদল, যুবদল কিংবা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। এর বাইরে কয়েকজন দলের সক্রিয় কর্মী। এ ছাড়া দলীয় নেতাদের পারিবারিক কয়েক ব্যক্তি। তবে বাদ পড়াদের তালিকায় অনেকে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতিতে যুক্ত।
সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা, বিধি লঙ্ঘন, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও যোগ্য আবেদনকারী বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পছন্দের ব্যক্তি ও বিতর্কিতরা ডিলারশিপ পেয়েছে। আওয়ামীলীগার, মাদক কারবারির স্ত্রীর নাম ডিলার তালিকায়। বাঘারপাড়ার দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান মো. আব্দুস সাত্তার। তিনি সার ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা। সম্প্রতি প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে তার দাবি, ঐ ইউনিয়নে অনুমোদনপ্রাপ্ত আব্দুর রশিদ নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যুক্ত। সে সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়ের গাড়িচালক মিজানুর রহমান মিজানের ভাই।
মনিরামপুরে মেসার্স নাফিস এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ পারভেজ রুবেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মফিজুর রহমান মফিজের ছেলে। ঝাঁপা ইউনিয়নে মেসার্স লাকি এন্টারপ্রাইজের মালিক মোলাম আলী স্থানীয় আওয়ামী লীগার ও অর্থ জোগানদাতা। নওয়াপাড়ার মেসার্স মনিরুল ফারাজীর মালিক বিএম মনিরুল আলম ফারাজী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার ফারাজীর ছেলে। চৌগাছার নারায়ণপুর ইউনিয়নে ডিলার আমেনা ট্রেডার্স। এর মালিক ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলু। মালিক আমেনা হলেও তা চালায় বিএনপি নেতা ডাবলু। আবেদনপত্রে দোকান ফাসতলায়। ওই নামে সেখানে কোন প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। ঠিকানায় যে ভবনের নাম লেখা সেখানে চাঁদের আলো সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি। ভবন মালিক জহুরুলের দাবি তার স্বাক্ষর জাল করে চুক্তিপত্র করা। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এটা চাঁদের আলো নামে এনজিওকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ডবলু সার ব্যবসায়ী নন।
নেহালপুর মেসার্স সরদার এন্টারপ্রাইজের মালিক তবিবর রহমান রুমু। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টুর খালাতো ভাই। দোকান নেই। তদবির করে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন। কালিবাড়ীতে কাগজপত্রে যে দোকানঘর উল্লেখ, তা পরিত্যক্ত গুদামঘর। সেখানে সার বেচাকেনা হয়না।
কেউ পরের গুদামঘরের চুক্তিনামা, কেউবা পরিত্যক্ত গুদামঘর দেখিয়েছেন। যাচাই করেননি কৃষি কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, উপজেলা পর্যায় থেকে যা এসেছে, জেলা কমিটি সেই তালিকা ঢাকায় পাঠিয়েছে। কোন খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। কৃষি অফিসও খোঁজ নেয়নি। ফলে এদের সিংহভাগ সার ব্যবসায়ী নন। বেশিরভাগের যোগ্যতা ঘাটতি রয়েছে। এজন্য সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে হযবরল পরিস্থিতি হয়েছে। এদের সিংহভাগ সার ব্যবসায়ী নন।
মণিরামপুরের দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে মেসার্স জান্নাতুল ফেরদাউস এন্টারপ্রাইজের মালিক রওশন আরা খাতুন চলমান ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ইউনিয়ন সুপারভাইজার। তার স্বামী আফজাল হোসেন মাদক কারবারি ও প্রতারক। তিনি সম্প্রতি ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার হয়েছেন।
প্রতিবাদে শনিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বিগত দিনে যাদের মামলা-হামলার শিকার হয়েছি, নেতারা এখন সেসব প্রতিপক্ষকে অর্থ-বাণিজ্যে ডিলার করেছে।
মণিরামপুরের সার ব্যবসায়ীরা বলেন, ২০০৮ থেকে ইউনিয়নে সার বিক্রি করি। এবার ডিলার হতে আবেদন করি। হয়নি। দীর্ঘদিন সার ব্যবসা করেও ডিলারশিপ পাইনি। সব নিয়মকানুন মেনে আবেদন করেছি। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় না থাকায় ডিলার হইনি।
বিভিন্ন অভিযোগে জেলার নারিকেলবাড়িয়া, চৌগাছা সদর ও হরিহরনগর ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ হয়নি। চৌগাছার ১১, বাঘারপাড়ায় সাত ও মণিরামপুরে তিনসহ মোট ২১টি ডিলারশিপ তদন্ত চলছে। স্থানীয় সরকার যশোরের উপপরিচালক রফিকুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে।স্থানীয় সরকার যশোরের উপপরিচালক রফিকুল হাসান মিডিয়াকে জানান, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি অভিযোগগুলো আমলে নিয়েছে। তদন্ত কমিটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
গত ২২ অক্টোবর সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ অভিযোগে যশোরে জামায়াতের পাঁচ এমপি সংবাদ সম্মেলন করেন। জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসূল বলেন, ৯৩ ইউনিয়নে বিএনপির নেতাদের প্রদত্ত তালিকায় ডিলার নিয়োগ হয়েছে। জামায়াতের এমপিদের সুপারিশ থাকলেও সেটি বিবেচনায় আনা হয়নি। ।
জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জানান ‘এটা সঠিক যে, আবেদন আমাদের নেতাকর্মী বেশি করেছেন। পেয়েছেন বেশি। তবে যাচাই-বাছাই করেছে জেলা প্রশাসন। নীতিমালা অনুযায়ী সঠিক না হলে কেউ ডিলার হয়নি। আমরা দলীয়ভাবে কোন হস্তক্ষেপ করিনি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24