
শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে তীব্র তাপদাহের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং, যা জনজীবনকে চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে।জনজীবনে লোডশেডিংয়ের প্রভাব
প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। হাসপাতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে ইরি-বোরো মৌসুম বা রবি শস্যের সেচ কাজের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। লোডশেডিংয়ের ফলে সেচ পাম্প বন্ধ থাকছে, যা ফসলের ফলন কমিয়ে দিতে পারে এবং কৃষকদের লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কলকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও সংরক্ষণে (যেমন—শীতলীকরণ ব্যবস্থা) সমস্যা হওয়ায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গৃহিণীদের দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজেও পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
বর্তমান পরিস্থিতির কারণজ্বালানি সংকট: বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস ও কয়লার অভাব এই লোডশেডিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।
চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি: অতিরিক্ত গরমের কারণে এসির ব্যবহার ও ফ্যানের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ডুমুরিয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরবর্তী এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ডুমুরিয়াবাসী।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফ্যান, পানি সরবরাহ, মোবাইল চার্জ—সব ক্ষেত্রেই দেখা দিচ্ছে সমস্যা। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।
এদিকে, এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বলছেন, দিনে গরমের কারণে পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। রাতে কিছুটা স্বস্তিতে পড়তে বসলে শুরু হয় লোডশেডিং, ফলে পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সংকটে তাদের উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গ্রাহকরাও বিরক্ত হয়ে পড়ছেন। অনেকেই জেনারেটর ব্যবহার করতে চাইলেও জ্বালানি সংকটের কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।
পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় সিরিয়াল আসার আগেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে জেনারেটর চালু রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আরও বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।