1. admin@mhnews24.com : admin :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারী চা আড্ডায় মুন্সীগঞ্জ থেকে তরুণী এনে গণধর্ষণ অভিযোগে গ্রেফতার ১ ভুট্টা ব্যবসায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ নেত্রকোণা দুর্গাপুরে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কৃষি কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকের সেবায় নতুন উদ্যোগ, মনোহরদীতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬ নং ওর্য়াডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান ​শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ১২টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল জব্দ কেশবপুরে সরকারি খাল দখলমুক্ত, কেটে দেওয়া হলো ঘেরের বেড়ি ‘ইত্যাদি’র জনপ্রিয় নানা-নাতি জুটি আজ স্মৃতির পাতায় ‘বড় কোনো পদ না পেলেও আক্ষেপ নেই’—হাসিমুখে যা বললেন লুৎফুজ্জামান বাবর সাতক্ষীরায় শুরু ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা

সহায়তার জন্য আকুতি মিতুর পরিবারের, শিকলে আবদ্ধ ২৪ বছরের তরুণী

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৫ বার পঠিত

মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামে মানবিক বেদনার এক হৃদয়বিদারক চিত্র দেখা গেছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি ছোট ঘরের কোণে পড়ে আছে এক তরুণীর জীবন—পায়ে ভারী লোহার শিকল, তাতে ঝুলছে তালা। এভাবেই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে মিতু (২৪)।

অথচ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা পেলে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই মিতুর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি পরিবার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, মিতু কখনো বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া কিংবা আশপাশের মানুষকে আঘাত করার চেষ্টা করত।
নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়েই পরিবার তাকে শিকলবন্দী করে রাখে। সেই শুরু, যা আজ ১৫ বছরের দীর্ঘ বন্দিজীবনে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা মিতুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আশার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কোনো জটিল বা নিরাময় অযোগ্য রোগ নয়। দীর্ঘদিন অবহেলা ও সঠিক চিকিৎসার অভাবেই তার সমস্যাটি গুরুতর আকার ধারণ করেছে। যথাযথ মানসিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসনের সুযোগ পেলে মিতু আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, মিতুর পরিবার চরম আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হয় তাদের। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিতুর মা বলেন, মেয়েকে এভাবে বেঁধে রাখা কোনো মায়েরই ভালো লাগে না। কিন্তু আমাদের কোনো উপায় নেই। যদি সরকার বা কোনো সহৃদয় ব্যক্তি এগিয়ে আসতেন, তাহলে আমার মেয়েটা হয়তো আবার সুস্থ হয়ে উঠত।
গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের মানবিক দায়িত্ব। মিতুর মতো একজন তরুণী যেন শিকলমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মিতুর জীবনে আবারও আলোর ঝলক ফিরবে—এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2026 MH News 24
Theme Customized By MH News 24