
নিউজ ডেস্ক-
যশোরের মণিরামপুর বাজারের তীব্র যানজট দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও এখন তা চরম আকার ধারণ করেছে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যাত্রীসাধারণ। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে রাস্তা প্রশস্তকরণ অথবা বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্যস্ত রাজারহাট-চুকনগর সড়কের মণিরামপুর বাজার অংশটি অত্যন্ত সরু ও অপ্রশস্ত হওয়ায় পুরো এলাকাটি কার্যত সংকীর্ণ গলিতে পরিণত হয়েছে। ফলে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই বাজারজুড়ে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় সময় ও জ্বালানির অপচয় হচ্ছে।
যানজটের কারণে চাকরিজীবীরা সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে দেরি হচ্ছে। একই সঙ্গে সরু ফুটপাত ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো জরুরি সেবাও এই যানজটের কবলে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছে না।
স্থানীয়দের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর এ সড়কে যানচাপ আরও বেড়েছে। দেশের অন্যান্য উপজেলা শহরে উন্নয়ন হলেও মণিরামপুরে এখনো যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এদিকে, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে হরিহর নদীসহ পাঁচটি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় কপোতাক্ষ নদ থেকে উৎপন্ন মৃতপ্রায় হরিহর নদীর প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশ খনন করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নতুন সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, খননকৃত হরিহর নদীর পাড়কে বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহার করা গেলে বাজার এলাকার যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, পৌর এলাকার মোহনপুর বটতলা থেকে বাদামতলা সেতুর পূর্ব পাড় হয়ে মণিরামপুর গোহাটা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা গেলে তা কার্যকর বাইপাস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এতে পৌর শহরের প্রায় ৭০০ মিটার সংকীর্ণ সড়কের ওপর চাপ কমবে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য প্রয়াত মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস মণিরামপুরে বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়ক দুই লেনে উন্নীত হলেও পৌর শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনো অপ্রশস্ত রয়ে গেছে।
এরপর মোহনপুর বটতলা-কামালপুর হয়ে মণিরামপুর সরকারি কলেজ পর্যন্ত নতুন বাইপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এলজিইডি ও সড়ক ও জনপদ বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জটিলতায় প্রকল্পটি থমকে যায়। পরে এটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় এনে সম্ভাব্যতা যাচাই ও জমি অধিগ্রহণের জন্য ২০৭ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের যশোর অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাইপাস নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীর পাড় ব্যবহার করে বিকল্প বাইপাস নির্মাণ করলে ব্যয় অনেক কম হতে পারে।
নদী খননকাজে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নদীর পাড়ে জমা হওয়া মাটি ব্যবহার করে ১৫ থেকে ২০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ সম্ভব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা মনে করেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও সমন্বয় থাকলে তুলনামূলক কম ব্যয়ে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব।
সবমিলিয়ে, মণিরামপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এখন সময়োপযোগী ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হয় বিদ্যমান সড়ক দ্রুত প্রশস্ত করা হবে, নয়তো বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে যানজটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হবে।